৫৬ বছর পর সিনসিনাটি ওপেনের নারী ফাইনালে দুই আমেরিকান

কোকো গফ ও জেসিকা পেগুলা

সিনসিনাটি ওপেনের নারী এককের ফাইনালে এবার দেখা যাবে দুই আমেরিকান তারকার লড়াই। সেমিফাইনালে জয়ের পর শিরোপার মঞ্চ নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কোকো গফ ও জেসিকা পেগুলা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫৬ বছর পর এই টুর্নামেন্টের নারী এককের ফাইনালে ফিরছে অল-আমেরিকান দ্বৈরথ।

সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচে চতুর্থ বাছাই কোকো গফের সামনে ছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের সারা বেইলেক। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার চেষ্টা করেন গফ। প্রথম সেটে বেইলেক কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে গফ ছিলেন বেশি কার্যকর। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ ব্যবধানে প্রথম সেট জিতে নেন তিনি।

দ্বিতীয় সেটে আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেননি গফ। একের পর এক আক্রমণাত্মক শট এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে বেইলেককে চাপে রাখেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেট ৬-১ ব্যবধানে জিতে সরাসরি দুই সেটে ম্যাচ শেষ করেন গফ। ফলে ক্যারিয়ারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় তার।

তবে দিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ছিল আরও বেশি উত্তেজনা। তৃতীয় বাছাই জেসিকা পেগুলার প্রতিপক্ষ ছিলেন টুর্নামেন্টের সপ্তম বাছাই ও সাবেক বিশ্বসেরা ইগা সিওনতেক। শুরু থেকেই দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়।

প্রথম সেটে পেগুলা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগিয়ে ৭-৫ ব্যবধানে এগিয়ে যান। তবে ম্যাচ ছেড়ে দেননি সিওনতেক। দ্বিতীয় সেটে নিজের খেলায় নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনে ৬-৪ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান তিনি।

ফলে ম্যাচ গড়ায় তৃতীয় ও নির্ধারক সেটে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই লড়াইয়ে দুই খেলোয়াড়ই কখনো দুর্দান্ত, আবার কখনো কিছুটা অস্থির টেনিস খেলেছেন। শেষ পর্যন্ত চাপ সামলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো নিজেদের করে নেন পেগুলা। ৬-৪ ব্যবধানে তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচও নিজের করে নেন তিনি।

ইগা সিওনতেককে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর পেগুলা জানান, ম্যাচটি পুরো সময়ই ছিল কঠিন। কখনো তিনি ভালো খেলেছেন, আবার কখনো নিজের সেরাটা খেলতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের গতিপথ বোঝাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে দিনের নানা প্রতিকূলতা সামলে শেষ পর্যন্ত জিততে পেরে সন্তুষ্ট তিনি।

পেগুলার এই জয় বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে সিনসিনাটি ওপেনের ইতিহাসে। কারণ ১৯৭০ সালের পর এবারই প্রথম এই টুর্নামেন্টের নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন দুই আমেরিকান খেলোয়াড়।

১৯৭০ সালে শেষবার অল-আমেরিকান ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন রোজি ক্যাসালস ও ন্যান্সি রিচি। সেই ম্যাচে ক্যাসালসকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন রিচি। এরপর দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সিনসিনাটির নারী ফাইনালে আর দুই আমেরিকানকে একসঙ্গে দেখা যায়নি।

এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন গফ ও পেগুলা। ফলে ফাইনালটি শুধু শিরোপা নির্ধারণের ম্যাচ নয়, আমেরিকান টেনিসের জন্যও হয়ে উঠেছে ঐতিহাসিক এক লড়াই।

দুজনের ক্যারিয়ারেই বড় সাফল্য রয়েছে। গফ ইতোমধ্যেই বড় মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে পেগুলাও দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব টেনিসের শীর্ষ পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন। এবার সিনসিনাটির হার্ডকোর্টে দুজনের লড়াইয়ে নির্ধারিত হবে কে উঠবেন চ্যাম্পিয়নের মঞ্চে।

ফাইনালের পথে গফের যাত্রা তুলনামূলকভাবে স্বস্তির হলেও পেগুলাকে পার হতে হয়েছে শক্ত প্রতিপক্ষ সিওনতেক-কে। বিশেষ করে প্রায় তিন ঘণ্টার সেমিফাইনালে তিন সেটের লড়াই জিতে ফাইনালে ওঠায় পেগুলার মানসিক দৃঢ়তারও বড় পরীক্ষা হয়েছে।

সিনসিনাটি ওপেনের নারী ফাইনালে তাই এবার একদিকে থাকবে গফের তারুণ্য ও আক্রমণাত্মক টেনিস, অন্যদিকে পেগুলার অভিজ্ঞতা ও চাপ সামলে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা। দুই আমেরিকান তারকার লড়াইয়ে যে-ই জিতুন, সিনসিনাটি ওপেনের ইতিহাসে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত হবে।

শুধু নারী একক নয়, এবারের সিনসিনাটি ওপেনের পুরুষ এককের ফাইনালেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রান্সেস টিয়াফো লড়বেন ফ্রান্সের আর্থার ফিলসের বিপক্ষে। ফলে নারী ও পুরুষ, দুই একক ইভেন্টের ফাইনালেই থাকছে আমেরিকান টেনিসের প্রতিনিধিত্ব।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles