দীর্ঘ ১৩ বছর পর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগআউটে ফিরে এসেই জয় উদ্যাপন করলেন হোসে মরিনহো। আর তার স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের রাতকে আরও রঙিন করে দিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি তারকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে রিয়াল মাদ্রিদ ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদকে।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয় লা লিগা ম্যাচে পুরো তিন পয়েন্ট পেল মরিনহোর দল। অন্য গোলটি করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সোসিয়েদাদের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন লুকা সুচিচ।
এমবাপ্পের জন্যও ম্যাচটি ছিল বিশেষ। রিয়ালের জার্সিতে তিন গোল করার মধ্য দিয়ে ক্লাবটির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১০৫ ম্যাচে ৮৯টিতে। অসাধারণ এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, মাদ্রিদের আক্রমণভাগে কতটা দ্রুত নিজের জায়গা পাকা করেছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের আগে থেকেই বার্নাব্যুতে ছিল উৎসবের আবহ। মরিনহোর নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসে উচ্ছ্বাস। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মার্ক কুকুরেয়া ট্রফি নিয়ে মাঠে আসেন এবং তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
শুরু থেকেই অবশ্য রিয়ালকে চ্যালেঞ্জ জানায় সোসিয়েদাদ। মিকেল ওয়ারজাবালের সুযোগ ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। এরপর রিয়াল ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আরদা গুলের ও জুড বেলিংহ্যামের সৃজনশীলতায় আক্রমণ সাজাতে থাকে স্বাগতিকরা।

বিরতির পাঁচ মিনিট আগে রিয়ালকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। ফেদেরিকো ভালভার্দের বুদ্ধিদীপ্ত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শটে গোল করেন তিনি। তবে বিরতির আগেই রিয়ালের রক্ষণে ফাঁক গলে ম্যাচে সমতা ফেরান সুচিচ।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে রিয়াল। ম্যাচের এক ঘণ্টার মাথায় বেলিংহ্যামের সঙ্গে ওয়ান-টু করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এমবাপ্পে। আট মিনিট পর বেলিংহ্যামের লড়াকু প্রচেষ্টায় বল পেয়ে সহজ সুযোগ থেকে গোল করেন ভিনিসিয়ুস।
শেষের দিকে ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত থ্রু বল থেকে চিপ করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এমবাপ্পে। যোগ করা সময়ে ব্রাহিম দিয়াজের একটি গোল ভিএআরে বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
সব মিলিয়ে, মরিনহোর বার্নাব্যুতে প্রত্যাবর্তনের রাতটি হয়ে থাকল এমবাপ্পের। পুরোনো কোচের নতুন অধ্যায়ের শুরুতে নতুন নায়কের হ্যাটট্রিক-রিয়াল মাদ্রিদের জন্য দারুণ এক স্মৃতি হয়ে থাকলো।


