লর্ডসে পাকিস্তানের বোলিং-ঝড়

লিডসের দুঃস্বপ্নের পর লর্ডসে যেন অন্য এক পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানের বিশাল পরাজয়ের ক্ষত বুকে নিয়েই দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেছিল তারা। আর প্রথম দিনের শুরুতেই বল হাতে সেই ক্ষতের জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মোহাম্মদ আব্বাস ও মোহাম্মদ আলি। দুজনের দুর্দান্ত সুইং ও সিমে ইংল্যান্ড একসময় ৩৬ রানে হারিয়ে ফেলেছিল তিন উইকেট। তবে জেমি স্মিথ ও জর্ডান কক্সের প্রতিরোধে শেষ পর্যন্ত লর্ডসে প্রথম দিনটি দাঁড়াল সমানে সমান।

বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচে আকাশের মুখ ছিল ভার। টস জিতে এমন কন্ডিশনে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি ভাবতে হয়নি পাকিস্তানকে। শুরুতেই তার সুফলও মেলে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে এমিলিও গের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল উইকেটের পেছনে চলে গেলে শরীর ছুড়ে দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।

এরপর আব্বাসের রাজত্ব। মাত্র ১০ বল পর তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হন বেন ডাকেট। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নটআউট হলেও অধিনায়ক বাবর আজমকে রিভিউ নিতে রাজি করান আব্বাস। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, বল অফ স্টাম্পের ওপর আঘাত করত। এভাবেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৯০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

এরপর আব্বাসের শিকার জো রুট। ১৩ বলের অস্বস্তিকর অবস্থান শেষ হয় তাঁর প্যাডে বল আঘাত করলে। লাঞ্চের আগে আব্বাসের বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৪ রান।

মোহাম্মদ আব্বাস

তবে সকালের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ডেলিভারিটি আসে মোহাম্মদ আলির হাত থেকে। হ্যারি ব্রুককে অফ স্টাম্পের বাইরে খোঁচা দিতে প্রলুব্ধ করে বলটি আচমকা ভেতরে ঢুকে যায়। ব্যাটের নাগাল এড়িয়ে সোজা গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। প্রথম টেস্টে ইংল্যান্ডের ইনিংস জয়ে সর্বোচ্চ রান করা ব্রুক ফিরলেন এবার মাত্র ৪ রানে।

দ্বিতীয় সেশনে অবশ্য আলো ফুটল লর্ডসে, ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়েও। বাঁহাতি স্পিনার আলি উসমান প্রথম দিকে দারুণ নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ধীরে ধীরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ড্যান লরেন্স ও জর্ডান কক্সের জুটি ভাঙে রান নেওয়ার ভুল বোঝাবুঝিতে। এরপর কক্স ও স্মিথের ব্যাটে ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানো।

মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নামা কক্স দেখালেন পরিণত ব্যাটিং। একের পর এক আক্রমণ সামলে তুলে নেন অর্ধশতক। তাঁর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৬৭ রানের জুটি গড়েন স্মিথ। দুজন মিলে যখন ইংল্যান্ডকে বিপদমুক্ত করার পথে, তখন সালমান আগার অসাধারণ ক্যাচে থামে কক্সের ইনিংস। দ্বিতীয় স্লিপে বদলি ফিল্ডার হিসেবে দাঁড়িয়ে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে বাতাস থেকে ক্যাচটি তুলে নেন সালমান।

কক্সের বিদায়ের পরও স্মিথ থামেননি। দুর্দান্ত স্ট্রেট ড্রাইভে দশম বাউন্ডারি তুলে নেওয়ার পর তাঁর ব্যাটে দেখা দিচ্ছিল বড় ইনিংসের সম্ভাবনা। কিন্তু আবারও মোহাম্মদ আলি। ব্রুককে ফেরানোর মতোই ভেতরে ঢুকে আসা ডেলিভারিতে স্মিথের ব্যাট পরাস্ত, বল গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। তিন বলের মধ্যে আলির দ্বিতীয় শিকার হন অলিভার রবিনসনও।

শেষদিকে জোফ্রা আর্চারের ছক্কা ইংল্যান্ডের ইনিংসে কিছুটা রোমাঞ্চ যোগ করেছিল। কিন্তু আব্বাসের চতুর্থ শিকারে তাঁর প্রতিরোধও থামে। ইংল্যান্ডের ইনিংস তখন শেষ উইকেটের অপেক্ষায়। কিন্তু ঠিক তখনই নেমে আসে আলো-স্বল্পতা। প্রায় ৬টা ১০ মিনিটে খেলা বন্ধ হয়, পরে দিনের খেলা পরিত্যক্ত হয়।

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles