স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে জয়ের মঞ্চ প্রস্তুতই ছিল। দরকার ছিল শুধু শেষ স্পর্শের। সেটিই এনে দিলেন ড্যানি ওয়েলবেক। বিরতির পর তাঁর হেডে খুলল চেলসির জয়ের দরজা, শেষদিকে হাকিম ওডোফিনের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান বাড়ল। শেষ পর্যন্ত লুটন টাউনকে ২-০ গোলে হারিয়ে কারাবাও কাপের তৃতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিল জাবি আলোনসোর দল।
লিগ ওয়ানের প্রতিপক্ষ বলেই ম্যাচটিকে হালকাভাবে নেয়নি চেলসি। বরং একাদশে ছিল বেশ কিছু পরিচিত মুখ। কোল পালমার, মর্গান রজার্স ও এস্তেভাওকে শুরু থেকেই মাঠে নামিয়েছিলেন আলোনসো। তবে দলে ছিলেন না এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার সিটির সম্ভাব্য প্রস্তাবকে ঘিরে তাঁর অনুপস্থিতি আলোচনায় ছিল।
গোলপোস্টের নিচেও ছিল নতুন মুখ। ফুলহামের বিপক্ষে সোমবারের ম্যাচে দুটি ভুলের পর রবার্ট সানচেজকে বেঞ্চে রেখে ২১ বছর বয়সী বেলজিয়ান গোলরক্ষক মাইক পেন্ডার্সকে অভিষেক করান আলোনসো। একই দিনে বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে অ্যাস্টন ভিলা থেকে দলে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তি হওয়ায় চেলসির গোলরক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
প্রথমার্ধে বলের দখল ও আক্রমণে পরিষ্কার আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু লুটনের সংগঠিত রক্ষণ ভেদ করা সহজ হয়নি। পালমার ও এস্তেভাওর বোঝাপড়ার পর চেলসির ইংলিশ ফরোয়ার্ডের পরপর দুই শট ঠেকিয়ে দেন লুটন গোলরক্ষক জশ কিলি। রিস জেমসের ফ্রি-কিক থেকেও বিপদ সামাল দেন তিনি।

এস্তেভাও নিজেও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। ভ্যালেন্টিন বারকোর থ্রু বল ধরে তাঁর নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রজার্সও ঘরের মাঠে অভিষেকেই গোলের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন-তাঁর জোরালো শট গিয়ে লাগে ক্রসবারের নিচের অংশে।
অবশেষে অপেক্ষার অবসান দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। ৫০ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে এস্তেভাও বল বাড়িয়ে দেন মালো গুস্তোর দিকে। ডান দিক থেকে গুস্তোর নিখুঁত ক্রস উড়ে যায় লুটনের গোলের দূর পোস্টে। সেখানেই অপেক্ষায় ছিলেন ওয়েলবেক। নিখুঁত সময়ে মাথা ছুঁইয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। চেলসির জার্সিতে এটি তাঁর প্রথম গোল।
গোলের পরও চেলসির আক্রমণের ধার কমেনি। পালমারের বাঁকানো এক দুর্দান্ত শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচে আবারও নিজের ছাপ রাখেন ইংল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড। ফুলহাম ম্যাচেও চেলসির অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন।
লুটন খুব কমই আক্রমণে উঠতে পেরেছে। মাঝেমধ্যে দূরপাল্লার চেষ্টায় স্বাগতিকদের চমকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে তারা। কেসি পালমারের একটি শক্তিশালী শট গোলের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর বাইরে পেন্ডার্সকে খুব বেশি পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।
৮৮ মিনিটে ম্যাচের শেষ অধ্যায়ও লিখে ফলে চেলসি। এস্তেভাও ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু ক্রস বাড়ান। বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ওডোফিনের পায়ে লেগে বল চলে যায় নিজেদের জালে। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেলসি।
যোগ করা সময়ে বদলি জেমি গিটেন্সের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তৃতীয় গোলটি না এলেও চেলসির আধিপত্যের গল্প তাতে বদলায়নি।
আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তটি ছিল ম্যাচের শেষভাগে। প্রথমবারের মতো স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের গ্যালারি থেকে শোনা গেল আলোনসোর নামের স্লোগান।


