আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ বিসিবির মেডিকেল বিভাগ

অবশেষে নিজেদের মেডিকেল বিভাগকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে বাড়ানো হবে চিকিৎসাসুবিধা। এ জন্য একাডেমি ভবনে বরাদ্দ পাওয়া প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গায় ধাপে ধাপে আধুনিক মেডিকেল ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বিসিবি।

বর্তমানে বিসিবির মেডিকেল বিভাগে ছোটখাটো শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা জরুরি চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাও মেলে কেবল ম্যাচ ও আনুষ্ঠানিক অনুশীলনের সময়। এ ছাড়া চোট থেকে সেরে ওঠা ক্রিকেটারদের জন্য নেই কোনো পুনর্বাসন কেন্দ্র। মাত্র দুজন চিকিৎসক নিয়ে চলছে বিভাগের কার্যক্রম।

বৃহস্পতিবার মেডিকেল কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। তিনি বলেন, মেডিকেল বিভাগের চিকিৎসকসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

শামীম বলেন, ‘একাডেমি ভবনে আমাদের মেডিকেল বিভাগের জন্য প্রায় তিন হাজার বর্গফুট জায়গা বরাদ্দ দেওয়া আছে। সেখানে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। একটা পরিকল্পনাও করেছি। এখানে আমাদের চিকিৎসক সংখ্যা কম। চিকিৎসক সংখ্যা বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, ইমার্জেন্সির কোনো ব্যবস্থা নেই।’

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইমার্জেন্সি মেডিকেল ইউনিট, বহির্বিভাগ (ওপিডি), পুনর্বাসন ইউনিট ও অবজারভেশন বে করার কথা জানিয়েছেন তিনি। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কোনো মানের সঙ্গে আপস করতে চান না বলেও জানান শামীম।

তিনি বলেন, ‘শর্ট টার্মে কী কী আমরা করতে পারি, সেভাবে আলোচনা করেছি। প্রত্যেকটা জায়গা একেবারে অত্যাধুনিক হবে। আমরা মানের দিক থেকে কোনো ছাড় দেব না।’

তবে অবকাঠামো উন্নয়নের আগে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার পরিকল্পনা করছেন শামীম। তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত একটা অ্যাম্বুলেন্সের পরিকল্পনা করছি।’

বিসিবির বিভিন্ন ভেন্যুতে বর্তমানে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সুবিধা না থাকায় চোটের সমস্যায় ক্রিকেটারদের ঢাকায় আসতে হয়। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক পর্যায়েও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করতে চায় বিসিবি।

শামীম বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিকভাবেও চিন্তা করেছি। পাঁচটা ভেন্যু আছে আমাদের। সেখানে একজন করে ডাক্তার, ফিজিও ও ট্রেনার নিয়োগ করা যায় কি না, সেটা নিয়েও আমরা চিন্তাভাবনা করছি।’

বিসিবির মেডিকেল বিভাগের উন্নয়নের মাধ্যমে শুধু ক্রিকেটার নয়, দেশের অন্যান্য খেলোয়াড়ও উপকৃত হবেন বলে মনে করেন শামীম। তাঁর মতে, দেশে একটি শক্তিশালী স্পোর্টস মেডিসিন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলার মানুষ এর সুফল পাবেন।

চোট পাওয়া ক্রিকেটারদের চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা কমিয়ে দেশেই বিশ্বমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাঁর লক্ষ্য। শামীম বলেন, ‘আমরা ক্রিকেট বোর্ডের সবার সহায়তায় মেডিকেল ইউনিটকে আন্তর্জাতিক মানের এবং এর চেয়ে ভালো করে তৈরি করতে পারব। যে পরিকল্পনা করছি, তাতে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসবে, আমাদের বাইরে যেতে হবে না। এটা আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি।’

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles