এশিয়ান গেমস শুরু হওয়ার আগেই বড় ধরনের আবাসন সংকটে পড়েছে আয়োজক জাপান। প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সংখ্যক অ্যাথলেট ও কর্মকর্তা অংশ নেওয়ায় থাকার ব্যবস্থা নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার কাছে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কমানোর অনুরোধও জানিয়েছে জাপানি আয়োজক কমিটি।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় প্রায় ১৫ হাজার অ্যাথলেট ও কর্মকর্তার জন্য আবাসন এবং বাজেট নির্ধারণ করেছিল আয়োজকরা। কিন্তু পরবর্তীতে টেকবল ও প্যাডেলের মতো নতুন কয়েকটি ইভেন্ট যুক্ত হওয়ায় সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বাড়তি দুই হাজার অংশগ্রহণকারীর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও থাকার জায়গা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সমস্যা সামাল দিতে অতিরিক্ত অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের উদ্যোগে থাকার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছে আয়োজকরা। এবারের আসরে প্রচলিত অর্থে কোনো বড় অ্যাথলেটস ভিলেজও থাকছে না। বিকল্প হিসেবে একটি ক্রুজ শিপে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার অ্যাথলেটের থাকার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি অস্থায়ী কন্টেইনারভিত্তিক আবাসন, বিভিন্ন হোটেল এবং টোকিওর কিছু আবাসিক সুবিধাও ব্যবহার করা হচ্ছে। এতসব বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীর আবাসন নিশ্চিত করা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
শুধু আবাসন নয়, ক্রিকেটের ভেন্যু নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক। নাগোয়ার কোরোগো স্পোর্টস পার্ককে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর আগে জায়গাটি মূলত বেসবল মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ক্রিকেটের জন্য ভেন্যুটির প্রস্তুতি ও মান নিয়ে আপত্তি তুলেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের অন্য সদস্যদের মধ্যেও মাঠের মান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সবকিছু মিলিয়ে এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই আয়োজক জাপানের সামনে দেখা দিয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানের আইচি প্রিফেকচারের নাগোয়া ও আশপাশের এলাকায় বসবে ২০২৬ এশিয়ান গেমসের আসর। নির্ধারিত সময়ের আগে আবাসন ও ভেন্যু-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো কতটা সফলভাবে সামাল দিতে পারে আয়োজকরা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


