ব্যালন ডি’অর পুরস্কার আসলে ব্যক্তিগত একটি পুরস্কার, মৌসুমের সেরা খেলোয়াড়ের। নিজে ভালো খেলাই যথেষ্ট নয়, দল কী জিতেছে, সেটাও বেচনায় নেওয়া হয় ব্যালন ডি’অরের বেলায়। তবে এই ধারণার বিপরীত মত প্রকাশ করেছেন বিখ্যাত ফুটবল কোচ জোসে মরিনিও। মরিনিওর বার্তা হল বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলেই শুধু ব্যালন ডি’অর নয়।
মরিনিওর কথা হল ব্যক্তিগতভাবে যাঁরা ফুটবল ইতিহাসে এমন জায়গা করে নেন যে অবসরের পরও তাঁদের অভাব অনুভূত হয়, ব্যালন ডি’অর তাঁদেরই পাওয়া উচিত। মালাগার বিপক্ষে রোববার লা লিগার ম্যাচ সামনে রেখে আজ ভালদেবেবাসে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন মরিনিও। সংবাদ সম্মেলেনের একপর্যায়ে উঠে আসে আসন্ন ব্যালন ডি’অর প্রসঙ্গ। এবারের পুরস্কারের দৌড়ে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা রদ্রি ও লামিনে ইয়ামাল, পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা উসমান দেম্বেলে ও ইউরোপিয়ান গোল্ডেন শু জেতা হ্যারি কেইনের নাম আলোচনায় আছে এছাড়া মরিনিওর দল রিয়ালের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পেও আছেন সেই দৌড়ে। তবে এঁদের মধ্যে আকারে–ইঙ্গিতে এমবাপ্পর প্রতিই সমর্থন জানিয়েছেন পর্তুগিজ এই কোচ। যদিও সর্বশেষ মৌসুমে রিয়াল বা ফ্রান্সের হয়ে কোনো ট্রফি নেই এমবাপ্পের।
রিয়াল মাদ্রিদ কোচ জোসে মরিনিওর মতে, ব্যালন ডি’অরের মানদণ্ড শুধু দলীয় শিরোপা হওয়া উচিত নয়, ‘ব্যালন ডি’অর পাওয়া উচিত এমন খেলোয়াড়দের, যারা অবসরে গেলে আমরা আজীবন মিস করে থাকি। আমি ম্যারাডোনা, রোনালদিনিও, নাজারিও, ক্রিস্টিয়ানো, মেসি, জিদান, ম্যাথাউসকে মিস করি। শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগ বা বিশ্বকাপ জিতেছে বলে কাউকে ব্যালন ডি’অর দেওয়া যায় না।’ মরিনিও বিস্তারিত বলতে গিয়ে টেনে এসেছেন তাহলে গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিশ্বকাপ জেতা দুই কোচ পিএসজির লুইস এনরিকে ও স্পেনের লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে, ‘চ্যাম্পিয়নস লিগকে পুরস্কৃত করতে চাইলে ব্যালন ডি’অর লুইস এনরিকেকে দিন। স্পেনের জন্য দে লা ফুয়েন্তেও এটির যোগ্য। কিন্তু বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের কথা ভিন্ন। সে পিএসজি বা স্পেনেরই হতে হবে, এমন নয়।’
রিয়ালের খেলোয়াড় কে পেতে পারেন: মরিনিও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘দুই, তিন বা চারজন আছে। আমরা জানি, তারা কারা। তারা কোথায় আছে, সেটাও জানি-এখানেই। আমরা জানি, এই গ্রীষ্মে ব্যক্তিগতভাবে কে ইতিহাস গড়েছে। ব্যালন ডি’অরে রাজনীতি আছে। আর রাজনীতি ঢুকে পড়লে আমার বিষয়টা এতটা ভালো লাগে না।’
ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এগিয়ে এমবাপ্পে:
মরিনিও এমবাপ্পেকে ইঙ্গিত করে বলেন সর্বশেষ মৌসুমে ব্যক্তিগত অর্জনে দুর্দান্ত ছিলেন ফরাসি তারকা। লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ- দুই আসরেই সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান হবে ২৬ অক্টোবর, লন্ডনে।


