চার মাসেরও বেশি সময় পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরছেন কার্লোস আলকারাজ। ডান কবজির চোটের কারণে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনের মতো বড় দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম মিস করার পর ইউএস ওপেনকে বেছে নিয়েছেন স্প্যানিশ তারকা। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরলেও নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক টেনিসেই কোর্টে নামতে চান ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।
সোমবার ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডে রোমান সাফিউলিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে আলকারাজের প্রত্যাবর্তন। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে কবজির চোটে আক্রান্ত হওয়ার পর এটাই হবে তার প্রথম প্রতিযোগিতামূলক একক ম্যাচ। ফলে দীর্ঘদিন পর পাঁচ সেটের গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচে কেমন পারফর্ম করেন, সেদিকেই থাকবে সবার নজর।
আলকারাজ নিজেও জানেন, এত দীর্ঘ বিরতির পর সরাসরি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ম্যাচে নামাটা সহজ হবে না। তবে চোট কাটিয়ে ফেরার জন্য যা যা করার প্রয়োজন, তার সবই করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের টেকনিকেও কোনো পরিবর্তন আনেননি এই স্প্যানিশ তারকা। বরং কোর্টে ফিরে নিজের পরিচিত ছন্দেই খেলতে চান।
দীর্ঘ বিরতির কারণে ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি অবশ্য রয়েছে। ইউএস ওপেনের আগে কয়েকটি মিশ্র দ্বৈতের ম্যাচ খেলে কিছুটা ম্যাচের জড়তা কাটানোর চেষ্টা করেছেন আলকারাজ। এমনকি এই সপ্তাহে সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে মিক্সড ডাবলসেও খেলেছেন তিনি। তবে আলকারাজ স্বীকার করেছেন, ইউএস ওপেনের আগে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সময়টা আদর্শ ছিল না।
তারপরও নিউইয়র্কে ফেরার সুযোগকে দারুণভাবে দেখছেন তিনি। আলকারাজের কাছে ইউএস ওপেনেই ফিরে আসার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এই টুর্নামেন্টের পরিবেশ ও গুরুত্ব। তিনি মনে করেন, চার মাসের বিরতির পর প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফেরার জন্য এর চেয়ে ভালো মঞ্চ আর হতে পারে না।
ইউএস ওপেনে এবারও অন্যতম ফেবারিট আলকারাজ। গত বছর ফাইনালে ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিলেন তিনি। সেই জয়ের পর সিনারকে টপকে বিশ্বের এক নম্বর র্যাঙ্কিংও দখল করেছিলেন স্প্যানিশ তারকা। তবে এবার সিনার থাকছেন না। ডান হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করেছেন ইতালিয়ান তারকা। ফলে আলকারাজের শিরোপা ধরে রাখার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের আসরে শীর্ষ বাছাই হয়েছেন আলেকসান্দার জভেরেভ। তবে আলকারাজের প্রথম ম্যাচ ঘিরেই টেনিসপ্রেমীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম বাছাই ফ্রান্সেস তিয়াফোও মনে করছেন, নিজের স্বাভাবিক ফর্মের কাছাকাছি থাকলেই আলকারাজকে হারানো অত্যন্ত কঠিন হবে। এমনকি পুরোপুরি সেরা অবস্থায় না থাকলেও পাঁচ সেটের ম্যাচে তাকে হারাতে প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
জভেরেভও আলকারাজকে নিয়ে সতর্ক মন্তব্য করেছেন। জার্মান তারকার মতে, কব্জির চোট থেকে ফিরে প্রথম এক-দুই ম্যাচে কিছুটা জড়তা দেখা দিতে পারে। কিন্তু টুর্নামেন্ট যত এগোবে, আলকারাজ ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবেন এবং শেষ পর্যন্ত শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠতে পারেন।
তবে চার মাসের বিরতির পরই শিরোপা জয়ের লক্ষ্য স্থির করতে চান না আলকারাজ। নিজের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না করে প্রতিটি ম্যাচ ও প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান তিনি। চোট নিয়ে ভয় বা দুশ্চিন্তাও যেন তার খেলায় প্রভাব না ফেলে, সেদিকেও নজর রাখছেন।
আলকারাজের জন্য এবারের ইউএস ওপেন তাই শুধু শিরোপা ধরে রাখার লড়াই নয়, বরং চোট কাটিয়ে নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফেরারও পরীক্ষা। দীর্ঘ বিরতির পর কোর্টে ফিরে তিনি কত দ্রুত ম্যাচের গতি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পান, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আর সেই প্রশ্নের প্রথম উত্তর মিলবে রোমান সাফিউলিনের বিপক্ষে ম্যাচেই।


