জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চীনের গুয়াংজুতে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আজ সোমবার রাতে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। তবে দল যখন দেশ ছাড়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে, ঠিক তখনই আলোচনার তুঙ্গে নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি। চলতি বছরের মে-জুন ভারতে অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আবারও তাকেই এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ রাত ৯টায় ঋতুপর্ণাদের ফ্লাইট থাকলেও বিকেলে জরুরি তলব করা হয়েছে অভিযুক্ত ম্যানেজারকে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বাফুফের অভ্যন্তরীণ নীতি এবং তদন্তের সদিচ্ছা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।
শেষ মুহূর্তে জুম মিটিংয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ
সাফ নারী ফুটবলে শৃঙ্খলাজনিত ঘটনার পর দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) চিঠির প্রেক্ষিতে বাফুফে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। তবে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে পারেনি এই কমিটি। অবশেষে আজ বিকেলে কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হলেও, রাতে ফ্লাইট থাকায় সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারছেন না অভিযুক্ত ম্যানেজার নওমি।
তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন জানান:
“যেহেতু রাতে দলের যাত্রা, তাই নওমি এবং দলের সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন সশরীরে উপস্থিত হতে পারছেন না। তারা লিখিত জবাব জমা দেবেন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম জুমে আমাদের সাথে যুক্ত হবেন। তবে উক্ত ঘটনার সময় সাফে মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা সাঈদ সশরীরে উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেবেন।”
তদন্ত কমিটিতে নাটকীয় রদবদল ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
তদন্ত কার্যক্রমের ধীরগতির পাশাপাশি কমিটির গঠন পরিবর্তন নিয়েও বাফুফের ভেতরে-বাইরে চটেছেন অনেকেই। প্রথমে এই কমিটিতে বাফুফে সদস্য ও কর্মকর্তা ছাড়া একজন নিরপেক্ষ সরকারি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আগে নারী দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামলাতে যিনি কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন, তাকে বাদ দিয়ে সম্প্রতি পুলিশ কর্মকর্তা নুসরাত লুনাকে অন্তর্ভুক্ত করেন কমিটি প্রধান হিলটন।
ফুটবল সংশ্লিষ্টদের মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছিলেন আতিকুর রহমান। তাকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াকে এক ধরনের লোকদেখানো আয়োজনে রূপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে তদন্ত বিলম্বিত হওয়া প্রসঙ্গে কমিটির চেয়ারম্যান বলেন:
“মাঝে ফুটবল বিশ্বকাপ এবং আমাদের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে কাজ কিছুটা থমকে গিয়েছিল। তবে হোটেল ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রিপোর্টই তৈরি করব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের এখতিয়ার বাফুফে সভাপতির।”
বাফুফের দ্বিমুখী নীতি ও ম্যানেজমেন্ট বিতর্ক
বাফুফের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জাতীয় দলের ম্যানেজার নির্বাচন নিয়ে বাফুফে সভাপতির অবস্থানকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা।
বিতর্ক, সাফ থেকে আসা অভিযোগ কিংবা অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যানেজমেন্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খলা; কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি অভিযুক্ত ম্যানেজারের চীনযাত্রায়। বাফুফে সভাপতির চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়া এটা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরা, যা দেশের ফুটবলের পেশাদারত্বকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলছে।


