বিপিএল সর্বশেষ আসরে দুর্নীতির অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযুক্ত তিনজনই বিসিবির সাবেক কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে উঠে আসা অভিযোগের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত তিনজন হলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান (শামীম), বিসিবির সাবেক সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) জাকির হোসাইন এবং বগুড়া জেলা থেকে বিসিবির সাবেক কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি। বিসিবির অভিযোগ অনুযায়ী, মোখলেসুর রহমানের বিরুদ্ধে বিপিএলের ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা ম্যাচের অন্য কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা বা এ ধরনের প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ-কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত বা সহায়তা করা, দুর্নীতির প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের তথ্য নির্ধারিত অ্যান্টিকরাপশন কর্মকর্তাকে সময়মতো না জানানো এবং তদন্তে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ বা তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করে তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা। জাকির হোসাইনের বিরুদ্ধেও ম্যাচের ফল বা ম্যাচের কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে প্ররোচিত বা সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টিকরাপশন তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া নোটিশের জবাব না দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত হওয়ার কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের তথ্য সময়মতো অ্যান্টিকরাপশন কর্মকর্তাকে না জানানো এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ বা অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের পর তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, অভিযোগের নোটিশ পাওয়ার পর নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তাঁদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
এরপর আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা অনুযায়ী চলবে শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া। তবে এই বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে বিসিবি। উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাব এবং পরবর্তী শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।


