ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একসঙ্গে একাধিক খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি। তাঁর মতে, এটি পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির ইতিহাসে ‘সবচেয়ে মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত’।
প্রথম দুই টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে এত বড় পরিবর্তন নিয়ে সমালোচনা চলছে ক্রিকেট মহলে। ৯ সেপ্টেম্বর এজবাস্টনে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে পিসিবির এমন সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক মনে করছেন আফ্রিদি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাবেক এই অধিনায়ক লিখেছেন, ‘এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তি বা কারণ কী, তা আমার মাথায় আসছে না! এমনকি যাদের দলে নেওয়া হয়েছে, তাও কোনো অর্থ বহন করে না। ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট ম্যাচের জন্য টি-টোয়েন্টি খেলোয়াড়দের নেওয়া হলো? এটি কেমন চিন্তাভাবনা ও পদ্ধতি?’
কোচিং স্টাফের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আফ্রিদি। তিনি লিখেছেন, ‘মাত্র পাঁচটি টেস্টের পর কোচকে কেন বরখাস্ত করা হলো? অনেক অভিজ্ঞ নির্বাচক থাকা সত্ত্বেও এটি একটি নির্বাচক কমিটির নেওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত।’
সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়েছেন সাত ক্রিকেটার। তাঁদের মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলী আগা, আলী উসমান ও খুররম শাহজাদ টেস্ট খেলেছেন। আমির জামাল ও মোহাম্মদ ওয়াইস জাফরকে অবশ্য কোনো ম্যাচ না খেলিয়েই দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তাঁদের জায়গায় দলে নেওয়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে কেবল সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলের। বাকি পাঁচজন—আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান ও রেজাউল্লাহ-এখনো আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষিক্ত হননি।
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও এসেছে বড় পরিবর্তন। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও তাঁর সহকারী উমর গুলকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সীমিত ওভারের দলের কোচ মাইক হেসন এবং সাবেক অস্ট্রেলীয় পেসার অ্যাশলি নফকে।
পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন দেশটির সাবেক চেয়ারম্যান ও অধিনায়ক রমিজ রাজাও। তিনি বলেছেন, ‘আমি নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু আসলে তা নয়। এটি পরিষ্কার প্রমাণ করে যে পাকিস্তান ক্রিকেট চরম আতঙ্কে ভুগছে এবং প্যানিক বাটন চেপে বসেছে।’
ইংল্যান্ড সফরে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট। দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে ইমরান খানের ছেলেদের একটি সাক্ষাৎকার স্কাই স্পোর্টসে সম্প্রচারিত হওয়া নিয়ে পিসিবি টেস্ট ও পুরো সফর বাতিলের হুমকি দিয়েছিল। যদিও অধিনায়ক বাবর আজম ও বিদায়ী কোচ সরফরাজ আহমেদ ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতেই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়।
এত সব বিতর্ক ও অস্থিরতার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে পাকিস্তান দলের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ক্ল্যারেন্স হাউসে এই সাক্ষাৎ হওয়ার কথা।


