প্রথমবারের মতো নারী ক্রিকেটে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। ঐতিহাসিক এই আসরের আয়োজক হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে পেছনে ফেলে স্বত্ব পেয়েছে ভারত। আগামী ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ছয় দলের এই টুর্নামেন্ট।
এর আগে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী আসর শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে টুর্নামেন্টের আয়োজক পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার পরিবর্তে ভারতকে আয়োজক হিসেবে বেছে নিয়েছে আইসিসি।
আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের ভেন্যু মূল্যায়ন করা হয়েছিল। সেখান থেকে গত ১ সেপ্টেম্বর আইসিসির বোর্ড ভারতের প্রস্তাব অনুমোদন করে। ফলে নারী ক্রিকেটে নতুন এই প্রতিযোগিতার প্রথম আসর বসতে যাচ্ছে ভারতের মাটিতে।
ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। মুম্বাইয়ের দ্য ক্রিকেট ক্লাব অব ইন্ডিয়া এবং বরোদার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো আয়োজন করা হবে।
নারী ক্রিকেটে আইসিসির নতুন এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে ছয়টি দল স্বাগতিক ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। রাউন্ড-রবিন পদ্ধতিতে হবে প্রতিযোগিতা। অর্থাৎ প্রতিটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে।
আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী আসরকে নারী ক্রিকেটের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের সেরা দলগুলোকে নিয়ে এই প্রতিযোগিতা নারী ক্রিকেটে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে দলগুলোর জন্য এটি বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
আইসিসির সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি বছরই নারী ক্রিকেটে একটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নারী ক্রিকেটের খেলোয়াড়, দল ও সমর্থকদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।
এদিকে শ্রীলঙ্কায় আয়োজক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে দেশটির ক্রিকেট প্রশাসনের জটিলতা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বর্তমানে সরকার-নিযুক্ত একটি ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’র মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই কমিটির দায়িত্ব দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার আনা।
আইসিসির নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ড রাজনৈতিকভাবে নিয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হতে পারে না। এর আগেও একই কারণে শ্রীলঙ্কা ২০২৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব হারিয়েছিল। পরে সেই টুর্নামেন্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজন করা হয়।
তবে আইসিসির সর্বশেষ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া সংস্কারের রূপরেখা অনুযায়ী শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে নারী ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মাধ্যমে। আর ঐতিহাসিক এই আসরের প্রথম আয়োজক হিসেবে ভারতের নাম যুক্ত হওয়ায় দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসেও যোগ হচ্ছে নতুন একটি অধ্যায়।


