ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টেস্টের আগে পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হেরে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পাকিস্তান। ফলে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টটি সিরিজের ফলাফলের দিক থেকে নিয়মরক্ষার হলেও, দলটির জন্য এটি হয়ে উঠেছে নতুনদের পরখ করার মঞ্চ।
শেষ টেস্টের জন্য পাঁচজন আনক্যাপড ক্রিকেটারকে দলে ডেকেছে পাকিস্তান। সব মিলিয়ে পরিবর্তন এসেছে সাতজন খেলোয়াড়ের। পাঁচ নতুন মুখের মধ্যে তিনজনই পেস বোলার। বাকি দুজনের একজন অলরাউন্ডার এবং অন্যজন উইকেটকিপার-ব্যাটার। মজার বিষয়, পাঁচজনের মধ্যে শুধু আরাফাত মিনহাসের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
বাঁহাতি স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার মিনহাস পাকিস্তানের হয়ে তিনটি ওয়ানডে ও চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। চলতি বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও গত মৌসুমটা বেশ ভালো কেটেছে তার। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১৭ ম্যাচে ৬৮৪ রান করেছেন, সঙ্গে নিয়েছেন ১৩ উইকেট। এর মধ্যে রয়েছে অপরাজিত ১৫২ রানের একটি সেঞ্চুরি।
উইকেটকিপার-ব্যাটার সাদ বেগও ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় দলের ডাক। সর্বশেষ কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে করাচি রিজিয়ন ব্লুজকে চ্যাম্পিয়ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। পুরো টুর্নামেন্টে এক হাজার রান করে হন টুর্নামেন্টসেরা। সব মিলিয়ে গত মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১ হাজার ৩৬৯ রান করেছেন বেগ। উইকেটের পেছনে ৫০টি ক্যাচ ও ছয়টি স্টাম্পিংসহ তার ডিসমিসাল ৫৬টি।
দলে ডাক পাওয়া পেসার মোহাম্মদ ইমরানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম। আট ম্যাচে ২৩ উইকেট রয়েছে তার। পাকিস্তান শাহিনসের হয়েও খেলেছেন তিনি। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি ইমার্জিং এশিয়া কাপে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে পাঁচ দিনের পেস বোলিং ক্যাম্পেও অংশ নেন তিনি।
২১ বছর বয়সী রাজাউল্লাহও দলে জায়গা পেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের সুবাদে। ডানহাতি এই পেসারের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আট ম্যাচে উইকেট ৩০টি। গড় মাত্র ২০ দশমিক ৮৬। এর মধ্যে তিনবার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে। ব্যাট হাতেও কার্যকর রাজাউল্লাহ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একটি সেঞ্চুরি ও একটি ফিফটি আছে তার।
পাঁচজনের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ ইমরান রানধাওয়া। ২০১৫-১৬ মৌসুমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। ৫৮ ম্যাচে ১১০ উইকেট নিয়েছেন এই ডানহাতি পেসার। ব্যাট হাতেও কম যান না তিনি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দুটি সেঞ্চুরি ও ১০টি ফিফটি রয়েছে তার। গত দুই মৌসুমে নিয়েছেন ৫৫ উইকেট। ২০২৬ সালের পিএসএলে মুলতান সুলতানসের হয়ে খেলেছেন। বিপিএলেও ঢাকা ডমিনেটর্সের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
অর্থাৎ, সিরিজ হারের পর এজবাস্টনে পাকিস্তানের সামনে একদিকে যেমন সম্মান বাঁচানোর লড়াই, অন্যদিকে ভবিষ্যতের দল গড়ার সুযোগ। নতুন পাঁচ ক্রিকেটারের কাউকে টেস্ট অভিষেক করিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনাই যেন স্পষ্ট পাকিস্তানের। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষায় ঘরোয়া ক্রিকেটের এই পারফর্মাররা নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন।


