ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ঘিরে অস্বস্তি এবার প্রকাশ্যেই চলে এসেছে। ইমাম উল-হকের চোট নিয়ে বিতর্ক, একাধিক ক্রিকেটারের বাদ পড়া এবং সিরিজে দলের ব্যর্থতার পর পাকিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে তীব্র সমালোচনা। পরিস্থিতিতে ব্যথিত পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদও। দলের পরিকল্পনা, একাদশ নির্বাচন এবং ক্রিকেটার বাছাই নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই পাকিস্তানি পেসার।
আকিবের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ, পাকিস্তান শুধু সিরিজই হারাচ্ছে না, দলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর ভাষায়, ‘গোটা বিশ্ব আমাদের দেখে হাসছে। কারণ আমরা লড়াইটাই করতে পারছি না।’
দলের ব্যাটিং-বোলিং ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আকিব। তাঁর মতে, পাকিস্তানের প্রথম সাত ব্যাটারের মধ্যে কেউ নিয়মিত বল করেন না। ফলে একাদশে একজন অলরাউন্ডারের বদলে এমন একজন পেসারকে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন, যিনি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করতে পারেন।

এই জায়গায় তাঁর পছন্দ উবেদ শাহ। আকিব মনে করেন, একজন গতি-নির্ভর বোলার দলের বোলিং আক্রমণের চেহারাই বদলে দিতে পারেন। একই সঙ্গে ফর্মহীন সলমন আগাকে বসানোর সিদ্ধান্ত বুঝতে পারলেও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জায়গায় ঘাজি ঘোরিকে সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
আকিবের বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর অসন্তোষ। তাঁর মতে, সিরিজ হেরে যাওয়ার পরও যদি টিম ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজনীয় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, তাহলে নির্বাচকদের হস্তক্ষেপ করতেই হবে।
তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচক কমিটি যে নিয়মিতভাবে দলের একাদশে হস্তক্ষেপ করছে-এমন অভিযোগ মানতে নারাজ আকিব। তাঁর দাবি, প্রথম একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁরা সরাসরি ভূমিকা নিতে চান না। কিন্তু দলের পরিকল্পনা ও নেওয়া সিদ্ধান্তের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে বার্তা পাঠানো হয়।
পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো একসঙ্গে সাত নতুন ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেন সিরিজের মাঝপথে এত পরিবর্তন-তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন আকিব।
তাঁর যুক্তি, পাকিস্তান যেহেতু সিরিজ হেরে গেছে, তাই এখন নতুন ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে হারানোর তেমন কিছু নেই। বরং তরুণদের ইংল্যান্ডের মতো আন্তর্জাতিক পরিবেশে পাঠিয়ে তাদের সামর্থ্য যাচাই করার সুযোগ তৈরি হবে।
আকিবের মতে, এতে বিশ্বের ক্রিকেটমহলও পাকিস্তানের নতুন প্রতিভাদের সম্পর্কে জানতে পারবে। একই সঙ্গে যেসব ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাঁদের জন্যও রয়েছে স্পষ্ট বার্তা-নিজেদের খেলায় উন্নতি করতে হবে এবং যোগ্যতা প্রমাণ করে আবার জাতীয় দলে ফিরতে হবে।


