আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ দেড় যুগের পথচলার ইতি টানতে যাচ্ছেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কিংবদন্তি এডিন জেকো। আগামী ২ অক্টোবর উয়েফা নেশন্স লিগে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ উপস্থিতি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবসরের ঘোষণা দেন ৪০ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকার। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ১৫২তম ম্যাচটিই শেষ ম্যাচ হিসেবে বেছে নিয়েছেন জেকো। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বসনিয়ার জেনিৎসায়।
২০০৭ সালের জুনে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বসনিয়ার জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল জেকোর। এরপর প্রায় ১৯ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে দলটির অন্যতম প্রধান ভরসায় পরিণত হন তিনি। এখন পর্যন্ত ১৫১ ম্যাচে করেছেন ৭৩ গোল, যা বসনিয়ার জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও জাতীয় দলের হয়ে খেলা জেকোর কাছে ছিল বিশেষ আবেগের বিষয়। ছোটবেলার স্বপ্ন ছিল দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার। ক্যারিয়ারের প্রতিটি ম্যাচে সেই স্বপ্নের অনুভূতিই তাকে তাড়িত করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জেকোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি আসে ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। তারকা এই ফরোয়ার্ডের নেতৃত্বে নয়, তবে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেয় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেটিই ছিল দেশটির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অর্জন।
এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপেও বসনিয়ার হয়ে মাঠে নামেন জেকো। এবার দলের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেন জাতীয় দলকে। বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পথেও ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
বিশেষ করে গত মার্চে জেনিৎসায় ইতালির বিপক্ষে প্লে-অফ জয় করে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে বসনিয়া। সেই ম্যাচের আগে ওয়েলসের বিপক্ষে জেকোর করা গোলটিও ছিল আলোচনায়।
এখন জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামার অপেক্ষা। বিদায়ী ম্যাচটিও স্মরণীয় করে রাখতে চান জেকো। দেশের সমর্থকদের পাশে নিয়ে, প্রিয় জার্সি গায়ে শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামাই তার প্রত্যাশা।
বসনিয়ার ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোলের মালিক জেকোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তাই যোগ হতে যাচ্ছে শেষ একটি অধ্যায়। ২ অক্টোবর সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর জাতীয় দলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ডকে।


