স্মরণ সভা
খেলার মাঠের উত্তেজনা, রোমাঞ্চ আর আবেগকে কণ্ঠের জাদুতে যারা দর্শক-শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, খেলার মাঠকে যারা শ্রোতাদের চোখের সামনে ভাসিয়ে তুলতেন, সময়ের স্রোতে সেই প্রিয় কণ্ঠগুলো আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু ক্রীড়াপ্রেমীদের হৃদয়ে যেন এখনো অমলিন তাদের কন্ঠের উত্তেজনা আর হৃদয়গ্রাহী খেলার মাঠের ধারাবর্ণনা। ক্রীড়া ধারাভাষ্যের সেইসব কিংবদন্তিদের কন্ঠ থেমেছে, কিন্তু স্মৃতিতে যারা এখনও অমলিন সেই সব প্রয়াত ক্রীড়া ভাষ্যকারদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করলো বাংলাদেশ স্পোর্টস কমেন্টেটরস এসোসিয়েশন (বিএসসিএ)

রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে ৫ সেপ্টেম্বর, আয়োজিত দোয়া ও স্মরণসভায় স্মরণ করা হয় বাংলা ক্রীড়া ধারাভাষ্যের পথিকৃৎ আবদুল হামিদ, আতাউল হক মল্লিক, বদরুল হুদা চৌধুরী, তৌফিক আজিজ খাঁন, মোহাম্মদ শাহজাহান, খোদা বকস মৃধা, মন্জুর হাসান মিন্টু, নুর আহমেদ, মোহাম্মদ মুসা, এস কে মাহবুব, হান্নান খান সহ প্রয়াত সকল ক্রীড়া ভাষ্যকারদের।
স্মরণ সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসসিএর সভাপতি ডা. অনুপম হোসেন, প্রধান উপদেষ্টা ও জীবন্ত কিংবদন্তি ক্রীড়া ভাষ্যকার আলফাজ উদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কমেন্টেটর শামীম আশরাফ চৌধুরী, সংগঠনের সাধারন সম্পাদক শামসুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সাংবাদিক, সংগঠক, তরুন ক্রীড়া ভাষ্যকার এবং প্রয়াত ক্রীড়া ভাষ্যকারদের পরিবারের সদস্য বৃন্দ।

প্রয়াত ধারাভাষ্যকারদের মধ্যে আবদুল হামিদ ছিলেন বাংলা ধারাভাষ্যের পথিকৃৎ, এছাড়া আতাউল হক মল্লিক ছিলেন ধারাভাষ্যকার ও ফুটবল রেফারি এবং ক্রীড়া লেখকসহ নানা গুনে গুণান্বিত। খোদা বকস মৃধা ধারাভাষ্যে সাহিত্যের কথা আর কন্ঠের মডুলেশনে ধারাভাষ্যকে শ্রুতি মধুর করে তুলতেন এমন নানা গুনের কথা স্মরণ করে আলোচনা করা হয়। এছাড়া বদরুল হুদা চৌধুরী, মোহাম্মদ মুসা, মঞ্জুর হাসান মিন্টু সহ অনেকের ধারাভাষ্যের স্মৃতি রোমন্থণ করেন অনুজ ধারাভাষ্যকার ও পরিবারের সদস্যরা।
আতাউল হক মল্লিকের ছেলে জাহিদুল হক মল্লিক বাবার স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বলেন- বাবা ধারাভাষ্য দিয়ে বাসায় ফিরে আমাদের লেখা পড়ার খোঁজ খবর নিতে ভুল করতেন না এছাড়া অনুষ্ঠানে মন্জুর হাসান মিন্টুর সহধর্মিনী পারভিন হাসান, ধারাভাষ্যকার মোহাম্মদ মুসার ছোট বোন সুরাইয়া বেগমও প্রয়াতদের স্মরণ করে তাদের ভাল গুন ও কাজ নিয়ে স্মৃতি চারণ করেন।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি পলাশ খান, নির্বাহী সদস্য কাজল সরকার, সহ সাধারন সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বোরহান, ধারাভাষ্যকার এম এ মুরাদ, তামান্না সিদ্দিকী, আমানুল্লাহ সরকার এবং সমন্বয় ঘোষ সহ সম্ভাবনাময় তরুণ ধারাভাষ্যকারগণসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

যাদের কণ্ঠে একসময় রেডিও কিংবা টেলিভিশনের সামনে বসে অসংখ্য মানুষ উপভোগ করেছেন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের নানা ঐতিহাসিক মুহূর্ত: বক্তারা বলেন, ক্রীড়া ভাষ্যকাররা শুধু একটি ম্যাচের বর্ণনাকারী নন; তারা একটি সময়, একটি প্রজন্ম এবং একটি ক্রীড়া ইতিহাসের সাক্ষী। তাদের কণ্ঠে খেলার মুহূর্তগুলো হয়ে উঠতো প্রাণবন্ত আরও স্মরণীয়। তাই তাদের অবদানকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন এবং প্রতিবছর এই স্মরণ সভার যাত্রা অব্যাহত রাখার ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।
স্মরণসভায় ক্রীড়া ধারাভাষ্যের মান উন্নয়ন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে কর্মশালার আয়োজন করা হবে বলে সভাপতি ডা. অনুপম হোসেন আশান্বিত করেন তরুন ধারাভাষ্যকারদের। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামের কমেন্ট্রি বক্স প্রয়াত গুণী ভাষ্যকারদের নামে নামকরণের দাবি উঠলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ স্পোর্টস কমেন্টেটরস এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা বর্ষিয়ান ধারাভাষ্যকার আলফাজ উদ্দিন আহমেদ এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে হিন্দি ধারাভাষ্যের পাইওনিয়ার ড. রবি চতুর্বেদীর (অনুষ্ঠানের জন্য শুভ কামনা জানিয়ে) পাঠানো একটি খুদে বার্তা পাঠ করে শোনান বিএসসিএর সাধারন সম্পাদক শামসুল ইসলাম এবং স্মরণ সভা অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন বিএসসিএর সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান।
মোনাজাত: অনুষ্ঠানে প্রদান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রয়াত ক্রীড়া ভাষ্যকারদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। প্রিয় সেই কণ্ঠগুলো আজ মাইক্রোফোনে নেই, কিন্তু তাদের বলা প্রতিটি শব্দ বাংলাদেশর জয়ের জন্য তারা প্রকাশ করে গেছেন। তাদের ভাল কাজের প্রতিদানস্বরূপ মহান আল্লাহ যেন তাঁদের ক্ষমা করে জান্নাত বাসী হিসেবে কবুল করেন বলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করা হয়।


