আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়াতে পদকের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন ডিসিপ্লিনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব খেলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাড়ানো হবে বরাদ্দ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা। এমনটাই জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
রোববার দুপুরে শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) আয়োজিত কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সাংবাদিকদের শারীরিক সুস্থতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান আমিনুল হক। তার মতে, ক্রীড়া নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের নিজেদেরও নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন শুধু একটি অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক আসরে বাংলাদেশের পদকপ্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। দেশে পঞ্চাশের ক্রীড়া ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশন থাকলেও এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় প্রতিযোগিতায় অনেক ডিসিপ্লিন থেকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে না। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে এবার সম্ভাবনাময় খেলাগুলোকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানালেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, যেসব ডিসিপ্লিন থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে। প্রশিক্ষণ ও অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এসব খেলাকে দেওয়া হবে বাড়তি গুরুত্ব।
এদিকে স্পোর্টস কার্নিভালে এবার আটটি ডিসিপ্লিনের ১২টি ইভেন্টে অংশ নেন বিএসপিএর শতাধিক সদস্য। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন খেলায় নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শন করেন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা।

কার্নিভালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরস্কার মো. আবদুল মান্নান লাডু ট্রফি ‘স্পোর্টসম্যান অব দ্য ইয়ার জিতে নেন মিদুল হাসান। একাধিক ইভেন্টে সাফল্য পান তিনি। সাঁতারে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে জুটি গড়ে ক্যারম দ্বৈতেও শিরোপা জেতেন মিদুল। এছাড়া ক্যারম এককে রানারআপ, আর্চারিতে তৃতীয় এবং ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হন তিনি।
প্রথম রানারআপ হয়েছেন মনজুর এলাহী শান্ত। শুটিং ও শটপুটে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি ক্যারম এককে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
দ্বিতীয় রানারআপের পুরস্কার পেয়েছেন জাহিদ মুনীর। কলব্রিজে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সুদীপ্ত আহমদ আনন্দের সঙ্গে জুটি বেঁধে টুয়েন্টি নাইনেও শিরোপা জেতেন তিনি। দাবায়ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন জাহিদ।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্পোর্টস কার্নিভালের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান মৌসুমী ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়া ও বাংলাদেশ আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন আহমেদ চপল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএসপিএ’র সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত আহমদ আনন্দ। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন ক্রীড়া উপকমিটির চেয়ারম্যান কাজী শহীদুল আলম। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নতুন সদস্যদেরও ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে বিএসপিএ সভাপতি রেজওয়ান উজ জামান ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
ক্রীড়া সাংবাদিকদের এমন আয়োজন যেমন পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সুস্থতার বার্তা দিয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পদক সম্ভাবনা বাড়াতে সরকারের নতুন পরিকল্পনাও দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।


