ফিফা-অনুমোদিত আধুনিক ফুটবল কমপ্লেক্স নির্মাণে ১৫.২০ একর জমি ৩০ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে সরকার
দীর্ঘ অপেক্ষার পর কক্সবাজারের রামুতে প্রস্তাবিত ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য জমি বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ঢালিরছড়া মৌজায় ১৫ দশমিক ২০ একর খাসজমি ৩০ বছরের জন্য বাফুফেকে লিজ দিয়েছে সরকার। এর মধ্য দিয়ে দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নের বহুল আলোচিত এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বড় একটি বাধা দূর হলো।
কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে জমি হস্তান্তরের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সরকারের পক্ষে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ. মান্নান এবং বাফুফের পক্ষে সভাপতি তাবিথ আউয়াল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে উভয় পক্ষ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিনিময় করে।
সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিশেষ বিবেচনায় প্রতীকী লিজ মূল্যে জমিটি বাফুফেকে দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর নির্ধারিত হলো জায়গা
জাতীয় ফুটবলের জন্য আধুনিক একটি টেকনিক্যাল সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা বাফুফে নেয় প্রায় চার বছর আগে। শুরুতে রামুর খুনিয়াপালং এলাকায় একটি জায়গা নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আওতাভুক্ত হওয়ায় পরিবেশগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেয়।
ফলে ওই স্থান থেকে সরে এসে নতুন জায়গার সন্ধান শুরু করে বাফুফে। পরিবেশগত বিষয়সহ প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনার পর রশিদনগরের ঢালিরছড়ার জায়গাটিকে চূড়ান্ত করা হয়।
এবার জমি আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ায় প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
থাকছে আধুনিক প্রশিক্ষণ সুবিধা
প্রস্তাবিত টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার অর্থায়নে গড়ে উঠতে যাওয়া এই কমপ্লেক্সে থাকবে একাধিক আধুনিক সুবিধা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে তৈরি করা হবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ। এর মধ্যে প্রাকৃতিক ঘাসের পাশাপাশি কৃত্রিম টার্ফের মাঠও থাকবে।
আবাসিক সুবিধার অংশ হিসেবে ফুটবলার ও কোচদের জন্য পৃথক চারতলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি থাকবে আধুনিক জিমনেসিয়াম, সুইমিংপুল, স্পোর্টস সায়েন্স ইউনিট এবং খেলোয়াড়দের চোট থেকে পুনর্বাসনের জন্য বিশেষায়িত রিহ্যাবিলিটেশন ব্যবস্থা।
প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে মাল্টিমিডিয়া কনফারেন্স হল, ক্যানটিন এবং কোচদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও রাখা হবে।
জাতীয় দলগুলোর নিয়মিত ক্যাম্পের সুযোগ
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের মতে, এই প্রকল্প দেশের ফুটবল অবকাঠামোকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। জমি বুঝে পাওয়ার পর দ্রুতই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ প্রাথমিক কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে ফেডারেশনের।
টেকনিক্যাল সেন্টারটি চালু হলে শুধু জাতীয় পুরুষ দলের জন্য নয়, নারী দল এবং বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে। দীর্ঘমেয়াদে এখান থেকেই প্রতিভাবান ফুটবলারদের উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশে আন্তর্জাতিক মানের স্থায়ী প্রশিক্ষণ অবকাঠামোর ঘাটতি দীর্ঘদিনের। সেই জায়গায় রামুর এই টেকনিক্যাল সেন্টার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় দলের প্রস্তুতি, বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং কোচিং কাঠামো, সব ক্ষেত্রেই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে বাফুফে।


