ইউএস ওপেনের শেষ আটে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেন এলেনা রিবাকিনা। দুইবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন নাওমি ওসাকাকে কোনো সুযোগই দিলেন না কাজাখস্তানের দ্বিতীয় বাছাই এই তারকা। লুই আর্মস্ট্রং স্টেডিয়ামে মাত্র ৬৬ মিনিটের লড়াইয়ে ৬-১, ৬-৪ গেমে ওসাকাকে উড়িয়ে দিয়েছেন রিবাকিনা।
এই জয়ের ফলে ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন ২৭ বছর বয়সী রিবাকিনা। শেষ আটে তাঁর প্রতিপক্ষ চীনের ঝেং কিনওয়েন। আর এই ম্যাচটি জিততে পারলেই রিবাকিনা প্রথমবারের মতো নারী টেনিসের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠবেন। এমনকি বর্তমান এক নম্বর আরিনা সাবালেঙ্কা নিউইয়র্কে নিজের শিরোপা ধরে রাখলেও রিবাকিনার শীর্ষস্থান দখল ঠেকানো যাবে না।
র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠার সম্ভাবনা নিয়ে অবশ্য বাড়তি চাপ নিতে চান না রিবাকিনা। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি এটা চাই। এমন কেউ আছে বলে মনে হয় না, যে এটা চাইবে না।’ তবে পরের ম্যাচ নিয়েই মনোযোগী থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচের মতো পরের ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে চান।
ওসাকার বিপক্ষে রিবাকিনার পারফরম্যান্স ছিল প্রায় নিখুঁত। বিশেষ করে সার্ভিসে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। পুরো ম্যাচে নিজের সার্ভিস থেকে মাত্র চার পয়েন্ট হারিয়েছেন তিনি। বিপরীতে চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী ওসাকা নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পাননি। ম্যাচে রিবাকিনা মেরেছেন সাতটি এস ও ২৯টি উইনার। ওসাকার উইনার ছিল মাত্র নয়টি।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রিবাকিনা। প্রথম সেটে ওসাকার সার্ভিস দুবার ভেঙে দ্রুত ৫-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। এরপর নিজের সার্ভিস ধরে মাত্র ২১ মিনিটেই প্রথম সেট নিজের করে নেন। শক্তিশালী সার্ভিসের পাশাপাশি গভীর গ্রাউন্ডস্ট্রোক দিয়ে ওসাকাকে কোর্টের পেছনে ঠেলে রাখেন রিবাকিনা।
দ্বিতীয় সেটের শুরুতে অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ওসাকা। একবার রিবাকিনার সার্ভিস ভাঙার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেননি। এরপর আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন রিবাকিনা। ৪-৩ গেমে এগিয়ে যেতে ওসাকার সার্ভিস ভেঙে দেন তিনি। সেখান থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

শেষ পর্যন্ত নিজের সার্ভিস ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করেন রিবাকিনা। ওসাকার পক্ষে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ও গভীর শট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ম্যাচের শেষ পয়েন্টের পর রিবাকিনার জয় নিশ্চিত হয় মাত্র ৬৬ মিনিটে।
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে ওসাকা জানান, পায়ে ব্যথার সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ফলে রিবাকিনার বিপক্ষে নিজের স্বাভাবিক পারফরম্যান্স করতে পারেননি চারবারের গ্র্যান্ড স্লামজয়ী জাপানি তারকা। এবারের ইউএস ওপেনের আগে অবশ্য আত্মবিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ ছিল তাঁর। প্রথম তিন ম্যাচে কোনো সেট না হেরেই চতুর্থ রাউন্ডে উঠেছিলেন ওসাকা। কিন্তু রিবাকিনার বিপক্ষে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বর্তমান অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন রিবাকিনার সামনে এখন বড় সুযোগ। কোয়ার্টার ফাইনালে ঝেং কিনওয়েনকে হারাতে পারলেই প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেনিসের শীর্ষে উঠবেন তিনি। তবে কাজটি সহজ হবে না। চীনের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঝেংও দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ আটে উঠেছেন। চতুর্থ রাউন্ডে একসময় প্রথম সেটে ০-৫ গেমে পিছিয়ে থেকেও সাবেক চ্যাম্পিয়ন ইগা শিয়নটেককে হারিয়েছেন তিনি।


