চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নতুন মৌসুমের শুরুটা জয় দিয়েই করল ম্যানচেস্টার সিটি। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়টি মোটেও সহজ ছিল না। প্রথমার্ধের শেষ দিকে মাঠের উত্তেজনা গড়িয়ে যায় টানেল পর্যন্ত যায়। আর দ্বিতীয়ার্ধে বৃষ্টিভেজা মাঠে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে সিটি। শেষ পর্যন্ত সব উত্তেজনা ছাপিয়ে দলের জয়ের নায়ক আর্লিং হালান্ড। নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারের জোড়া গোলে পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এনজো মারেস্কার অধীনে শুভসূচনা করেছে সিটি।
এস্তাদিও দো দ্রাগাওয়ে ম্যাচের প্রথমার্ধের শুরুটা ছিল ধীরগতির। ১৫ মিনিটের আগে সেভাবে আক্রমণে উঠতে পারেনি কোনো দল। এরপর অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে সিটি। ফিল ফোডেন ও অঁতোয়ান সেমেনিওর সমন্বয়ে তৈরি আক্রমণ থেকে হালান্ডের জন্য ক্রস বাড়ান ফোডেন। শক্তিশালী হেডে গোলের চেষ্টা করেছিলেন হালান্ড, কিন্তু পোর্তোর অধিনায়ক দিয়োগো কস্তার দুর্দান্ত সেভে তা আটকে যায়।
এরপরও সিটির আক্রমণ থামেনি। ফোডেনের নিচু শট ঠেকানোর পর হালান্ডের ভলি এবং রায়ান শেরকির ফিরতি প্রচেষ্টাও রুখে দেন কস্তা। পোর্তোর গোলরক্ষকের একের পর এক সেভে প্রথমার্ধে গোলশূন্যই থাকে ম্যাচ।

তবে মাঠের লড়াইয়ের উত্তাপ ক্রমেই বাড়তে থাকে। উইলিয়াম গোমেসের সঙ্গে সংঘর্ষের পর হলুদ কার্ড দেখেন ইয়োশকো গাভারদিওল। এরপর মার্ক গুয়েহির সঙ্গে পোর্তোর গ্যাব্রিয়েল ভেইগার সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হেডে যাওয়ার সময় গুয়েহির হাত ভেইগার গায়ে লাগে। পোর্তোর খেলোয়াড়েরা শাস্তির দাবি জানালেও রেফারি গুয়েহিকে কার্ড দেখাননি।
ভেইগাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য খেলা কিছু সময় বন্ধ থাকে। কিন্তু বিরতির বাঁশি বাজার পরও উত্তেজনা থামেনি। দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা ড্রেসিংরুমের দিকে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তাকর্মীদের হস্তক্ষেপ করতে হয়।
বিরতির সেই উত্তেজনার পর দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য মাঠের লড়াইয়ের রং বদলে দেন হালান্ড। ৪৭ মিনিটে সিটিকে এগিয়ে দেন তিনি। ডান প্রান্তে বল ধরে রাখার পর শেরকি তা দেন এনজো ফার্নান্দেজকে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের উড়ন্ত ক্রস থেকে হালান্ড নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান। বলটি পোস্টে লেগে জালে ঢোকে। এবার আর কস্তার কিছুই করার ছিল না।
গোল খেয়ে পোর্তো অবশ্য ভেঙে পড়েনি। বরং ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। পেপে হেডে গোলের চেষ্টা করেন, কিন্তু বল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। সেই সময় ডোনারুম্মার সঙ্গে সংঘর্ষের পর ফাউলের দাবি করে পেনাল্টির আবেদনও করে পোর্তো। রেফারি অবশ্য তাতে সাড়া দেননি।
এরপর কর্নার থেকে আলবার্তো কস্তার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। আলান ভারেলার দূরপাল্লার শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটা সময় সিটিকে নিজেদের রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়।
শেষদিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে সিটি। আর যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। রায়ান এইত-নুরির কাটব্যাক থেকে বল পেয়ে কাছ থেকে তা জালে জড়িয়ে দেন তিনি। তাতে পোর্তোর ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়।


