শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং নাহিদা, রাবেয়া ও মারুফার দুর্দান্ত বোলিংয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৩৪ রানে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ।
দুবাইয়ে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ৫৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগ্রেসরা। সেখান থেকে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলের ইনিংস বড় করার সংগ্রাম চালিয়ে যান শারমিন আক্তার। ১৩ বলে ১৩ রান করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন শারমিন। এরপর ইনিংসের ১৩তম ওভারের পর গতি বাড়িয়ে কভার ড্রাইভে রানের খাতা বড় করেন। ঈশা ওজার বলে টানা দু’টি বাউন্ডারিও হাঁকান ডানহাতি এই ব্যাটার।

নাহিদা আক্তারের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। শেষ পর্যন্ত শারমিন করেন ৩৮ রান (৩১ বল)। নাহিদা করেন গুরুত্বপূর্ণ অপরাজিত ১৬ রান। তবে আমিরাতের অফস্পিনার সুরক্ষা কোট্টে ১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটারদের বেশ ভুগিয়েছেন। তাঁর ২৪ বলের ১৬টিই ছিল ডট।
বাংলাদেশের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এছাড়া জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাটে আগে গুরুত্বপূর্ণ ১৬ রান।
১০৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আমিরাতকে চাপে রাখেন মারুফা আক্তার। ইনিংসের মাত্র চতুর্থ বলেই ইনসুইংয়ে অধিনায়ক ঈশা ওজাকে ফেরান তিনি। পরে সামাইরা ধরনিধারকার উইকেটও নেন মারুফা। পাওয়ারপ্লেতে তাঁর তিন ওভারে মাত্র ৬ রান আসে। শেষ পর্যন্ত ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন তিনি।

স্পিনাররাও এরপর চাপ ধরে রাখেন। রাবেয়া খান নেন ৩ উইকেট, নাহিদা আক্তার শিকার করেন ২ উইকেট। ১০ ওভারে আমিরাতের রান ছিল মাত্র ৩৪। পরের ওভারে থির্থা সতীশের বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। শেষ পর্যন্ত ৭০টি ডট বল খেলে ৯ উইকেটে ৬৯ রানেই থামে আমিরাতের ইনিংস।
এই জয়ে বাংলাদেশ প্রথম সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগ্রেসরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ — ১০৩/৭ (২০ ওভার)
শারমিন আক্তার — ৩৮
নিগার সুলতানা — ২৩
নাহিদা আক্তার — ১৬*
জুয়াইরিয়া — ১৬
সুরক্ষা কোট্টে — ৩/১১
সংযুক্ত আরব আমিরাত — ৬৯/৯ (২০ ওভার)
রাবেয়া খান — ৩/১৪
মারুফা আক্তার — ২/৯
নাহিদা আক্তার — ২ উইকেট
ফল: বাংলাদেশ ৩৪ রানে জয়ী
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ: সেমিফাইনাল বনাম ভারত, বৃহস্পতিবার


