ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেনের বার্সেলোনা ও নেদারল্যান্ডসের ফেইনুর্ড। স্পেনের বার্সেলোনার ঐতিহাসিক স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১১টায়। সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস-১।
ম্যাচটিকে ঘিরে ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। ইউরোপের মঞ্চে নিজেদের শক্তির জানান দিতে দুই দলই মাঠে নামবে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নতুন মৌসুমে নিজেদের পথচলাটা দারুণভাবে শুরু করতে চায় বার্সেলোনা। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার পরিকল্পনা থাকবে কাতালান জায়ান্টদের। বিশেষ করে বল দখলে রেখে দ্রুত পাসিং, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগের গতিশীলতার মাধ্যমে ফেইনুর্দের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে চাইবে স্বাগতিকরা।
বার্সেলোনার অন্যতম বড় শক্তি তাদের পাসিং ফুটবল। প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় বলের পেছনে ছুটিয়ে ক্লান্ত করে জায়গা তৈরি করা এবং সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আক্রমণে ওঠাই হতে পারে তাদের মূল কৌশল। নিজেদের অর্ধে বল হারানোর ঝুঁকি কমিয়ে ধীরে ধীরে ফেইনুর্ডের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করবে তারা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় কিছু করার লক্ষ্য থাকলে শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া বার্সেলোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘরের মাঠে পয়েন্ট হারানো এড়াতে চাইবে দলটি। তাই ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ফেইনুর্ডও কোনোভাবেই আত্মসমর্পণ করতে রাজি নয়। ডাচ ক্লাবটির প্রধান অস্ত্র হতে পারে আক্রমণাত্মক প্রেসিং এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ। বার্সেলোনা যখন আক্রমণে উঠে তাদের ফুলব্যাকদের সামনে পাঠাবে, তখন পেছনে তৈরি হওয়া ফাঁকা জায়গাগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে ফেইনুর্ড।
ফেইনুর্ড সাধারণত প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে বল দখলের পর দ্রুত আক্রমণে যেতে পছন্দ করে। ফলে বার্সেলোনার পাসিং ছন্দ ভেঙে দিতে পারলে ম্যাচে নিজেদের সুযোগ তৈরি করতে পারবে ডাচ দলটি। বিশেষ করে বার্সেলোনার রক্ষণভাগ ভুল করলে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করাই হবে তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে এগিয়ে থাকবে বার্সেলোনাই। ঘরের মাঠ, সমর্থকদের উপস্থিতি এবং ইউরোপীয় পর্যায়ে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা, সবকিছু মিলিয়ে স্বাগতিকদেরই ফেভারিট হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফেইনুর্দের লক্ষ্য থাকবে শুরুতে বার্সেলোনার চাপ সামলে ম্যাচকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।
ম্যাচে মাঝমাঠের লড়াইটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বার্সেলোনা যদি সেখানে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ফেইনুর্দকে দীর্ঘ সময় রক্ষণাত্মক অবস্থানে থাকতে হতে পারে। বিপরীতে ডাচ দলটি যদি প্রেসিংয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনার পাসিংয়ের গতি কমিয়ে দিতে পারে, তাহলে ম্যাচে তৈরি হতে পারে ভিন্ন চিত্র।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো মঞ্চে একটি ম্যাচের ফল পুরো অভিযানের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রথম ম্যাচ থেকেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইবে দুই দল। বার্সেলোনার লক্ষ্য যেখানে ঘরের মাঠে দাপুটে জয় দিয়ে ইউরোপীয় অভিযান শুরু করা, সেখানে ফেইনুর্দের চোখ থাকবে কঠিন প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে অন্তত ইতিবাচক ফল নিয়ে ফেরার দিকে।
সব মিলিয়ে বার্সেলোনার আক্রমণ বনাম ফেইনুর্ডের প্রেসিং ও কাউন্টার অ্যাটাক; এই কৌশলগত লড়াইই ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে। ক্যাম্প ন্যুতে তাই শুধু দুই দলের লড়াই নয়, দেখা যাবে দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনেরও সংঘর্ষ।


