সিরিজের ফল প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে, কিন্তু নাটকের শেষ এখনো বাকি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে একতরফা হারের পর এজবাস্টনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। দুই টেস্টের পরই পাকিস্তান দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রায় অর্ধেক স্কোয়াড বদলে যাওয়ার পর নতুন চেহারার দল নিয়ে অন্তত লড়াইয়ের ছাপ দেখাতে চায় পাকিস্তান।
প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। হেডিংলিতে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং লর্ডসে ১৯৪ রানে হেরেছে তারা। ফলে শেষ টেস্টে অধিনায়ক বাবর আজম ও নতুন দায়িত্ব পাওয়া সাদা বলের কোচ মাইক হেসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ-একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পাকিস্তানকে মাঠে নামানো।
হেসনকে লাল বলের দায়িত্বে আনা হয়েছে মূলত শেষ মুহূর্তে। এর সঙ্গে দলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আলি উসমান ও খুররম শাহজাদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের জায়গায় দলে ঢোকার সম্ভাবনায় রয়েছেন একাধিক নতুন মুখ। চারজনের অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
উইকেটকিপিংয়ে অভিষেক হতে পারে ২৩ বছর বয়সী গাজি ঘোরির। চারটি ওয়ানডে খেলা এই ক্রিকেটারকে এবার ইংল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে টেস্ট অভিষেকের চ্যালেঞ্জ নিতে হচ্ছে। মূল স্কোয়াডে থাকা আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফাজালের সঙ্গে ওপেনিংয়ে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ে আছেন সাইম আইয়ুবও। প্রায় ১৮ মাস পর টেস্ট দলে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর।
বোলিংয়েও থাকছে নতুন মুখ। ২১ বছর বয়সী পেসার রাজাউল্লাহর অভিষেক হতে পারে। উবায়েদ শাহও প্রথম দুই টেস্টে একাদশের বাইরে থাকার পর সুযোগ পেতে পারেন। ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে সক্ষম এই পেসার পাকিস্তানের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন। স্পিনে সাজিদ খানের ওপর আস্থা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

লর্ডস টেস্টে হারের মধ্যেও পাকিস্তানের জন্য কিছু ইতিবাচক দিক ছিল। মোহাম্মদ আব্বাস ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে দীর্ঘদিনের দক্ষতার পুরস্কার হিসেবে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন। ব্যাট হাতে সৌদ শাকিলও ভালো প্রতিরোধ গড়েছিলেন। তবে ১৯৪ রানে অলআউট হওয়া দলটির ব্যাটিংয়ে আরও বড় অবদান প্রয়োজন।
অন্যদিকে সিরিজ জয়ের পরও ইংল্যান্ডের সামনে নিজেদের আরও ভালোভাবে যাচাই করার সুযোগ। জো রুটের দলের পেস আক্রমণ ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। তবে সিরিজে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাটারই সেঞ্চুরি করতে পারেননি। রুটের পাশাপাশি এমিলিও গে, জর্ডান কক্স ও ড্যান লরেন্সের কাছ থেকেও বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকবে।
এজবাস্টনে পাকিস্তানের রেকর্ডও খুব সুখকর নয়। এই মাঠে আগের আট টেস্টে কোনো জয় নেই-তিনটি ড্র ও পাঁচটি হার। তাই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই শেষ টেস্টে অন্তত লড়াইয়ের একটি ছবি উপহার দিতে চাইবে পাকিস্তান। ইংল্যান্ডের জন্যও ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ-সিরিজ জয়ের পর তারা দেখতে চাইবে, এই সাফল্য দলটির আসল উন্নতির কতটা প্রতিফলন।


