১৩ বছর পর ফাইনালে মুখোমুখি শীর্ষ দুই বাছাই
ইউএস ওপেনের নারী এককের শিরোপা নির্ধারণ হবে বিশ্বের দুই শীর্ষ তারকার লড়াইয়ে। শনিবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন এক নম্বর বাছাই বেলারুশের আরিনা সাবালেঙ্কা ও দুই নম্বর বাছাই কাজাখস্তানের ইয়েলেনা রিবাকিনা। ২০১৩ সালের পর এই প্রথম ইউএস ওপেনের নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন টুর্নামেন্টের শীর্ষ দুই বাছাই। ফলে এবারের ফাইনাল ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা।
ফাইনালটি সাবালেঙ্কার জন্য যেমন টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন শিরোপা জয়ের মঞ্চ, তেমনি রিবাকিনার জন্যও এটি বিশেষ এক উপলক্ষ। ম্যাচের ফল যা-ই হোক, সোমবার প্রকাশিত নতুন র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের এক নম্বর নারী খেলোয়াড়ের আসনে বসবেন রিবাকিনা। অর্থাৎ শিরোপা জিতলে এক নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের সঙ্গে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফিও যোগ হবে তার অর্জনে।

দুই খেলোয়াড়ের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাসও বেশ জমজমাট। গ্র্যান্ড স্ল্যামের মঞ্চে এ নিয়ে চতুর্থবার দেখা হচ্ছে তাদের। আগের তিন ম্যাচে সাবালেঙ্কা জিতেছেন দুটি, রিবাকিনা একটি। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৭বার মুখোমুখি হয়েছেন তারা। সেখানে সাবালেঙ্কা এগিয়ে ১০-৭ ব্যবধানে। কিন্তু ফাইনালে দুজনের পরিসংখ্যান রিবাকিনার পক্ষে। তাদের মুখোমুখি ছয়টি ফাইনালের মধ্যে রিবাকিনা জিতেছেন চারটি, সাবালেঙ্কা দু’টি।
চলতি বছরও দুই তারকার লড়াই হয়েছে তিনবার। প্রথম সাক্ষাৎ ছিল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে। সেখানে ৬-৪, ৪-৬, ৬-৪ গেমে জিতে সাবালেঙ্কাকে হারিয়েছিলেন রিবাকিনা। এরপর ইন্ডিয়ান ওয়েলসের ফাইনালে পাল্টা জবাব দেন সাবালেঙ্কা। তৃতীয় সেটের টাইব্রেকারে ৮-৬ ব্যবধানে জয় পান তিনি। মিয়ামি ওপেনের সেমিফাইনালেও রিবাকিনাকে সরাসরি সেটে হারিয়ে বছরের লড়াইয়ে এগিয়ে যান সাবালেঙ্কা।

ইউএস ওপেনেও দু’জনের পথচলা ছিল আলাদা রকমের। সাবালেঙ্কা বেশির ভাগ ম্যাচেই দাপট দেখিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে লিন্ডা নসকোভার বিপক্ষে তিন সেট খেলতে হলেও অন্য ম্যাচগুলো সরাসরি সেটে জিতেছেন তিনি। ফলে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে বেশ আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় ফাইনালে উঠেছেন বেলারুশের এই তারকা।
অন্যদিকে রিবাকিনার শুরুটা ছিল আরও স্বচ্ছন্দ। টুর্নামেন্টের প্রথম চার রাউন্ডে কোনো সেট না হেরেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ দুই ধাপে কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাকে। কোয়ার্টার ফাইনালে ঝেং কিনওয়েনের বিপক্ষে প্রথম সেট ৩-৬ ব্যবধানে হারার পর ৬-১, ৬-৪ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ঘুরে দাঁড়ান রিবাকিনা। সেমিফাইনালেও একই রকম প্রত্যাবর্তন করতে হয়েছে তাকে। কোকো গফের বিপক্ষে প্রথম সেট ৩-৬ ব্যবধানে হারলেও পরের দুই সেট ৬-৪, ৬-৪ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালে লড়াই হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দুই তারকার আগের ১৭ ম্যাচের ১১টিই গড়িয়েছে তৃতীয় সেট পর্যন্ত। অর্থাৎ একে অপরের বিপক্ষে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা দুজনেরই রয়েছে। এবারও তাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন টেনিসপ্রেমীরা।
সাবালেঙ্কার সামনে এখন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। টানা তিনবার ইউএস ওপেন জিতলে বিরল এক কীর্তির অংশ হবেন তিনি। সর্বশেষ কোনো নারী খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনটি ইউএস ওপেন শিরোপা জিতেছিলেন সেরেনা উইলিয়ামস, ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে। সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তির পথে এখন মাত্র একটি ম্যাচ দূরে সাবালেঙ্কা।
অন্যদিকে রিবাকিনার লক্ষ্য হবে চলতি বছরের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সাফল্যের পর আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতা। বছরের শুরুতে সাবালেঙ্কাকে হারিয়েই অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ট্রফি জিতেছিলেন তিনি। এবার ইউএস ওপেনের ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষ। তাই নিউইয়র্কের মঞ্চে সাবালেঙ্কার হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন রিবাকিনা।
সব মিলিয়ে এবারের ইউএস ওপেন নারী এককের ফাইনাল শুধু একটি শিরোপার লড়াই নয়; এটি দুই তারকার সাম্প্রতিক দ্বৈরথের আরেকটি অধ্যায়। একদিকে সাবালেঙ্কার টানা তৃতীয় শিরোপার স্বপ্ন, অন্যদিকে রিবাকিনার নতুন এক নম্বর হওয়ার আনন্দকে গ্র্যান্ড স্ল্যাম ট্রফি দিয়ে পূর্ণ করার লক্ষ্য। তাই শিরোপার এই মহারণে কে শেষ হাসি হাসেন, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।


