ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তাঁর ঘূর্ণিতে একে একে সাজঘরে ফিরেছেন কলিন মুনরো, নিকোলাস পুরান ও সুনীল নারাইনের মতো তারকা ব্যাটসম্যানরা।
মিরাজের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিনবাগোর ব্যাটিং লাইনআপ বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। এরপর দ্বিতীয় ও চতুর্থ ওভারে আরও দুটি উইকেট নিয়ে নিজের চার ওভারের স্পেলটি স্মরণীয় করে রাখেন মিরাজ।
সিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেও তিন উইকেট নিয়েছিলেন মিরাজ। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে সেই পারফরম্যান্সকেও ছাড়িয়ে গেলেন তিনি। বল হাতে এমন কার্যকর পারফরম্যান্সের পর ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে।
ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, এটা আমার জন্য দারুণ একটি মুহূর্ত। আমি প্রথমবারের মতো সিপিএল খেলছি এবং ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছি। ম্যাচটি আমি দারুণ উপভোগ করেছি।’
নিজের বোলিং পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেছেন মিরাজ। তাঁর মতে, উইকেটের আচরণ বুঝে সঠিক জায়গায় বল করাই ছিল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি বলেন, ‘আমি সঠিক জায়গায় বল করার এবং উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি জানতাম উইকেট কিছুটা টার্নিং ছিল এবং এটি স্পিনারদের সাহায্য করবে।’
ব্যাট হাতে অবশ্য মিরাজ তেমন কিছু করতে পারেননি। তবে তাঁর বোলিং নৈপুণ্যেই ম্যাচে বড় ভূমিকা রেখেছে গায়ানা। শেষ পর্যন্ত তারা ৬ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়।
দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়েও সন্তুষ্ট মিরাজ। গায়ানার ম্যানেজমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গায়ানায় খেলার অভিজ্ঞতা আমার জন্য সত্যিই দারুণ একটি মুহূর্ত। তারা খুবই ভালো। বিশেষ করে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ জানাই।’
এই জয়ে সিপিএলের এবারের আসরে গায়ানার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ৯ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে দলটি। প্লে-অফের টিকিটও নিশ্চিত করেছে তারা। বাকি ম্যাচগুলোতেও দলের জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা মিরাজের।


