চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ায় জুনিয়র এশিয়া কাপ হকির অভিযান শেষ করে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ জুনিয়র পুরুষ হকি দল। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচ খেলে ইনার মঙ্গোলিয়া ছেড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এখন দলটির গন্তব্য বেইজিং। সেখান থেকে ঢাকার ফ্লাইটে উঠবে তারা। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দলের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এবারের জুনিয়র এশিয়া কাপে প্রত্যাশা নিয়ে চীনে গিয়েছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টটি ছিল শুধু ভালো ফলের জন্য নয়, জুনিয়র বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার লক্ষ্য ছিল দলের।
তবে টুর্নামেন্টের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন ছিল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক চীনের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে এগিয়েও গিয়েছিল লাল-সবুজের দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। লড়াই জমলেও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনকে আটকে রাখতে পারেনি দল।
এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী মালয়েশিয়া। সেই ম্যাচেও লড়াই করেছে জুনিয়ররা। তবে শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে পরাজয়ের পর গ্রুপ পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয় দলের সামনে।
তৃতীয় ম্যাচে সেই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রমাণও দেয় বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্স করে ৪-২ গোলের জয় তুলে নেয় তারা। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন শিমুল ইসলাম, মেহেদী হাসান ওভি, তৈয়ব আলী এবং মুন্না ইসলাম।
তবে গ্রুপ পর্বের চতুর্থ ও শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে বাংলাদেশ। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলের দেখা পায়নি দল। পাকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব শেষ করে বাংলাদেশ।
একটি জয় ও তিনটি পরাজয় নিয়ে পরের ধাপে স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে হয় বাংলাদেশকে। সেখানেও প্রত্যাশিত ফল পায়নি দল। জাপানের বিপক্ষে ৬-২ গোলে হেরে যায় জুনিয়ররা। এই পরাজয়ের ফলে টুর্নামেন্টে আরও ওপরে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।
তবে টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দল। সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চাইনিজ তাইপেকে ৫-২ গোলে হারিয়ে অভিযান শেষ করে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে জোড়া গোল করেন মোহাম্মদ রিফাত। একটি করে গোল করেন মুন্না ইসলাম, তৈয়ব আলী ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
শেষ ম্যাচের বড় জয় কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় বাংলাদেশ শিবিরে। পুরো টুর্নামেন্টে প্রত্যাশিত ধারাবাহিকতা না থাকলেও শেষ ম্যাচে দলের আক্রমণভাগের সক্ষমতা স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক হকিতে আরও উন্নতির জায়গাগুলোও সামনে এসেছে।
জুনিয়র এশিয়া কাপ হকি থেকে শিক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি
শেষ পর্যন্ত জুনিয়র এশিয়া কাপে সপ্তম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলাফল হয়তো প্রত্যাশিত হয়নি, তবে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চীন, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও জাপানের মতো দলের বিপক্ষে খেলা তরুণদের আন্তর্জাতিক হকির বাস্তবতা বুঝতে সহায়তা করবে।
এখন সেই অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশে ফিরছে বাংলাদেশ জুনিয়র পুরুষ হকি দল। ইনার মঙ্গোলিয়া থেকে বেইজিংয়ে পৌঁছে সেখান থেকে ঢাকার বিমান ধরবে তারা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৪০ মিনিটে দলের দেশে পৌঁছানোর কথা। চীনের এই সফর শেষ হলেও সামনে আরও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা। তাই ইনার মঙ্গোলিয়ার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী দল গড়ার লক্ষ্য থাকবে বাংলাদেশ হকির।




