সিরিজের মাঝপথেই পাকিস্তানের টেস্ট দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছিল সালমান আলী আগাকে। ইংল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। তবে ম্যাচে ব্যাট হাতে নিজে যেমন ব্যর্থ হয়েছেন, তেমনি পাকিস্তানও হেরেছে বড় ব্যবধানে। পরের টেস্টে একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর। এরপর প্রধান কোচ, বোলিং কোচসহ সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। সেই তালিকায় ছিলেন সালমানও।
তবে দেশে ফিরে খুব বেশি সময় নেননি জবাব দিতে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ফিরেই খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা এক ইনিংস। প্রেসিডেন্ট’স ট্রফি গ্রেড ১-এ হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমির হয়ে মারখোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে ৩৩৬ বলে ৩০০ রানে অপরাজিত ছিলেন ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। ইনিংসে ছিল ৪২টি চার ও ৬টি ছক্কা।
অ্যাবোটাবাদে ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন পাঁচ নম্বরে। হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমি তখন ৭২ রানে হারিয়েছিল ৩ উইকেট। সেখান থেকে মোহাম্মাদ সুলেমানের সঙ্গে দলকে এগিয়ে নেন সালমান। দিন শেষে তাঁর রান ছিল ১০১, অপরাজিত।
দ্বিতীয় দিনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের আগের সর্বোচ্চ ১৬৯ রানের রেকর্ড ছাড়িয়ে যান সালমান। এরপর তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি। সেখানেই থামেননি, ইনিংসটিকে নিয়ে যান তিন শ পর্যন্ত।
সুলেমানের সঙ্গে তাঁর জুটিতে আসে ২৭৪ রান। সুলেমান ১১৫ রানে আউট হওয়ার পরও অন্য ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে ব্যাটিং চালিয়ে যান সালমান। শেষ পর্যন্ত ৩০০ রানে পৌঁছানোর পর ৭ উইকেটে ৫৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে হায়দরাবাদ কিংসমেন একাডেমি।
সেঞ্চুরি খরার পর ড্রাইভিং সিটে সালমান
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অবশ্য সালমানের সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। টেস্টে তাঁর সবশেষ সেঞ্চুরি এসেছিল ২৫ ইনিংস আগে। সবশেষ আট ইনিংসে ফিফটি ছিল মাত্র একটি। এমন সময়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন তিনি। ট্রিপল সেঞ্চুরির পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সালমান বলেছেন, ‘বেশ ভালো লাগছে। কারণ এসব মাইলফলক বারবার আসে না। জীবনে একবারই এসব হয়। বেশ আনন্দ লাগছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে নিজের ব্যাটিংয়ে কিছু পরিবর্তন আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত কয়েকটি সিরিজে আমার ফর্ম আশানুরূপ ছিল না। ফর্ম ফিরে পেতে কখনো কখনো কিছু পরিবর্তন আনা খুব সহায়ক হতে পারে। আমিও আমার ব্যাটিংয়ে সামান্য পরিবর্তন এনেছি, যা আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।
দল থেকে বাদ পড়ার পর প্রথম সুযোগেই এমন ইনিংস দিয়ে সালমান যেন বুঝিয়ে দিলেন-ফর্ম হারালেও ব্যাট হাতে ফেরার পথ তিনি এখনো ভালোভাবেই জানেন।




