১৫ নভেম্বর, ১৯৮৯ সালে সিনিওরিনি সৌভাগ্য ক্রমে ম্যারাডোনার সাথে যুদ্ধ জাহাজ পরিদর্শনের যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। সিনিওরিনি যেহেতু বহুদিন ম্যারাডোনার সঙ্গে ছিলেন, তাঁর মাঠ ও ব্যক্তিগত জীবনকে খোলনলচে জেনেছেন, চোখের সামনে অনেক কিছুর সাক্ষী ছিলেন ফার্নান্দো সিনিওরিনি, তাই ’৮৬ বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে নিয়ে তাঁর স্মৃতিচারণায় নতুন কিছু উঠে আসা স্বাভাবিক। সিনিওরিনি ম্যারাডোনাকে স্মৃতির ঝাঁপি খুললে প্রতিবারই প্রকাশ পায় কিংবদন্তির জীবন ঘনিষ্ঠ না বলা সব গল্প। তেমনী এক বিরল ছবি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজে ম্যারাডোনা, যুদ্ধ জাহাজপরিদর্শনে যা ৩৭ বছর আগে তুলেছিলেন তাঁরা দুজনে।

সেই পরিদর্শনের পটভূমিও সিনিওরিনি জানিয়েছেন এভাবে-‘নেপলসে ন্যাটোর সদর দপ্তর থেকে ম্যারাডোনাকে ‘ইউএসএস আইওয়া’ রণতরি পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সৌভাগ্যবশত তাঁর সঙ্গে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম আমিও।’ ম্যারাডোনা তত দিনে ’৮৬ বিশ্বকাপ জিতেছেন। নাপোলিকে জিতিয়েছেন লিগ ও উয়েফা কাপ। পাশাপাশি মাঠে ব্যক্তিগত ঝলকের পসরা তো ছিলই। আসলে মহাতারকা বলতে যা বোঝায় ঠিক তাই। মহাতারকাকে আইওয়ায় রাষ্ট্রপ্রধানের মতোই অভ্যর্থনা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছিল আমাদের সময়টা দারুণ কেটেছিল।
সিনিওরিনি ম্যারাডোনাকে জানতেন, বুঝতেন। সে জন্যই একবার বলেছিলেন, ‘আমি ডিয়েগোর পেছনে পৃথিবীর শেষ সীমানা পর্যন্ত যেতে রাজি আছি, কিন্তু ম্যারাডোনার সঙ্গে রাস্তার মোড় পর্যন্তও যাব না।’ এ কথার ভেতরে তাকালে বোঝা যায়, সর্বকালের অন্যতম সেরা এ ফুটবলারের ভেতরে সিনিওরিনি আবিষ্কার করেছিলেন দুটি সত্তা; ডিয়েগো-নিখাদ মানুষ, সরল ও বন্ধুবৎসল, মাঠে ফুটবল জাদুকর কিন্তু ভেতরে শিশুর মতো মন। ম্যারাডোনা-প্রচারমাধ্যম, ভক্তদের অতিরিক্ত উন্মাদনা এবং খ্যাতির চরম চাপ থেকে তৈরি হওয়া এক ধ্বংসাত্মক চরিত্র, যা তাঁকে ধীরে ধীরে গ্রাস করেছিল।

৩৭ বছর আগের ছবি। একটি যুদ্ধজাহাজে গুলি ছোড়ার বিশাল দুটি নলের মাঝে দাঁড়িয়ে বল পায়ে কসরত করছেন ম্যারাডোনা। ক্যাপশনে সেই চিরন্তন সত্যই লেখা, ‘সব জায়গাতেই ম্যারাডোনার সঙ্গে বল থাকতই। আর্জেন্টিনার এই ছবিগুলো এত দিন অপ্রকাশিত ছিল।




