রাফিনহার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে বার্সেলোনা। সেভিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয় পেয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড রাফিনহা। এর ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচে জয় পেল বার্সেলোনা। মাত্র তিন দিন আগে রেসিং সান্তান্দারের বিপক্ষে ৭-২ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন রাফিনহা। এবারও তিন গোল করে মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যা নিয়ে গেছেন ১৪-তে।
সেভিয়ার মাঠে অবশ্য শুরুটা ভালো হয়নি বার্সেলোনার। ম্যাচের ১৯ মিনিটে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন ইউসুফ ফোফানা। বাঁ দিক থেকে ফেলিক্স কোরেইয়ার দারুণ ক্রস পেয়ে হেডে বল জালে পাঠান তিনি। তবে সেভিয়ার সেই ব্যবধান স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট। দ্রুত আক্রমণ গড়ে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান রাফিনহা।
৩২ মিনিটে আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের বাড়ানো বল পেয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার অরুনা সাঙ্গান্তেকে কাটিয়ে নিচু শটে গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও আর কোনো গোল হয়নি। বার্সেলোনার হয়ে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন লামিনে ইয়ামাল ও পেদ্রি। ইয়ামালের শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। অন্যদিকে, পেদ্রি সহজ সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ায় বার্সেলোনা। ৫২ মিনিটে রাফিনহার হেডে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। ইয়ামাল গোলরক্ষকের কাছ থেকে ফিরে আসা বল তুলে নিয়ে বক্সে ভাসিয়ে দেন। সেখান থেকে নিখুঁত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা।

৬৪ মিনিটে রাফিনহার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে গোলের জন্য তাঁকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ৬৯ মিনিটে ইয়ামালের সহায়তায় হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। রদ্রির কাছ থেকে বল পেয়ে ইয়ামাল রাফিনহার দিকে বাড়িয়ে দেন। এরপর নিখুঁত চিপ শটে সেভিয়ার গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার আক্রমণভাগের এই তারকা।
ম্যাচের শেষদিকে রাফিনহাকে তুলে নেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় মাঠে নামেন করিম আদেয়েমি। যোগ করা সময়ে চতুর্থ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন আদেয়েমি। তবে গোলরক্ষককে একা পেয়েও সরাসরি তাঁর গায়ে শট মেরে বসেন। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। এই জয়ে টানা আট ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি রাফিনহার দুর্দান্ত ফর্মও দলটির শিরোপা-যাত্রায় নতুন আত্মবিশ্বাস যোগ করেছে।


