চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ মুখোমুখি হচ্ছে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। নিজেদের মাঠে জয়ের লক্ষ্যে নামবে দিয়েগো সিমিওনের দল। অন্যদিকে, মাইকেল ক্যারিকের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড চাইবে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে। তবে স্প্যানিশ ক্লাবটির আক্রমণাত্মক ফুটবল ও ঘরের মাঠের পরিবেশ সফরকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় আজ রাত একটায়।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সাবাহকে ৪-০ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বিপরীতে, প্রথম ম্যাচে লিভারপুলের কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
তবে ইউনাইটেডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব রয়েছে। বিরতির আগে ও পরে দুই সময়েই রক্ষণে দুর্বলতা এবং প্রতিপক্ষকে সহজে সুযোগ করে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে দলটির খেলায়। বিশেষ করে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণভাগের একাধিক সমস্যার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ক্যারিকের দলের জন্য এই ম্যাচে কৌশলগত পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ তৈরির পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে কিছুটা জায়গা দিয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়া ইউনাইটেডের জন্য কার্যকর কৌশল হতে পারে। তবে সেই পরিকল্পনা সফল করতে হলে রক্ষণভাগকে আরও সংগঠিত হতে হবে।
দিয়েগো সিমিওনের আতলেতিকো মাদ্রিদকে প্রতিপক্ষের মাঠে সামলানো কঠিন হলেও নিজেদের মাঠে তারা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দলটির রক্ষণাত্মক শৃঙ্খলা এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণ ইউনাইটেডের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
গত মৌসুমে রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা থাকলেও নতুন খেলোয়াড়দের সংযোজনের মাধ্যমে সেই সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে আতলেতিকো। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও মার্ক পুবিলের মতো খেলোয়াড়দের উপস্থিতি রক্ষণে বাড়তি দৃঢ়তা দিতে পারে।
ম্যাচের প্রথম গোলটি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ইউনাইটেড এগিয়ে গেলে পাল্টা আক্রমণের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, আতলেতিকো প্রথমে গোল করতে পারলে নিজেদের পছন্দের গতিতে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাবে।
দুই দলের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারবার দেখা হয়েছে। সেই চার ম্যাচের কোনোটিতেই জয়ের দেখা পায়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
২০২১-২২ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হয়েছিল দল দুটি। প্রথম লেগে মাদ্রিদে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ১-০ গোলের জয় পায় আতলেতিকো। দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্প্যানিশ ক্লাবটি।
অতীতের সেই সাফল্য এবারও আতলেতিকোকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। তবে ইউনাইটেডের বর্তমান স্কোয়াডে থাকা আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়েরা নিজেদের সেরা ছন্দে থাকলে পুরোনো হিসাব বদলে দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
আতলেতিকোর আক্রমণভাগে হুলিয়ান আলভারেজ হতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। নতুন মৌসুমে এখনো গোলের খাতা খুলতে না পারলেও ক্লাবটির হয়ে নিজের প্রথম ১০৬ ম্যাচে ৪৯ গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইচ্ছা নিয়ে আলোচনার পর আতলেতিকোর সমর্থকদের একাংশের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখেও পড়েছিলেন তিনি। এখন গোল করে নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়া এবং সমর্থকদের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই হতে পারে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগাতে পারলে আলভারেজের সামনে গোল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর পাশাপাশি আক্রমণভাগে বিকল্প হিসেবে রয়েছেন আলেকজান্ডার সরলথ ও জোনাথন ডেভিড।
ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের সমস্যা এই ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষকরে হ্যারি ম্যাগুয়ার ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজের সাম্প্রতিক ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
টটেনহ্যামের বিপক্ষে ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ প্রতিপক্ষের ওয়ান-অন-ওয়ান আক্রমণ, মাঝমাঠ থেকে দেরিতে উঠে আসা খেলোয়াড় এবং বক্সে ক্রস সামলাতে সমস্যায় পড়েছিল। আতলেতিকোও একই ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে পারে।
এ ছাড়া লুক শ ও কোবি মেইনু সোমবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করেননি। ফলে মঙ্গলবারের ম্যাচে তাঁদের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্যাট্রিক ডরগু, বেনিয়ামিন সেস্কো ও নুসাইর মাজরাউইও দলের বাইরে রয়েছেন।
আতলেতিকো মাদ্রিদের সম্ভাব্য একাদশ
ফর্মেশন: ৪-২-৩-১
- গোলরক্ষক: ইয়ান ওবলাক
- রক্ষণভাগ: মার্কোস ইয়োরেন্তে, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, মার্ক পুবিল, ইয়ান হানকো
- মিডফিল্ড: কোকে, পাবলো বারিওস
- আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড: কাং-ইন লি, আলেক্স বায়েনা, আদেমোলা লুকম্যান
- স্ট্রাইকার: হুলিয়ান আলভারেজ
সিমিওনে চাইলে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আলেকজান্ডার সরলথ বা জোনাথন ডেভিডকে আক্রমণভাগে ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, কাং-ইন লি ও লুকম্যানের গতি দুই প্রান্তে আতলেতিকোর আক্রমণকে আরও ধারালো করতে পারে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সম্ভাব্য একাদশ
ফর্মেশন: ৪-২-৩-১
- গোলরক্ষক: সেন্নে লামেন্স
- রক্ষণভাগ: লেনি ইয়োরো, হ্যারি ম্যাগুয়ার, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ডিয়োগো দালোত
- ডিফেন্সিভ মিডফিল্ড: ইউরি টিলেমান্স, কার্লোস বালেবা
- আক্রমণাত্মক মিডফিল্ড: ব্রায়ান এমবেউমো, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, মার্কাস রাশফোর্ড
- স্ট্রাইকার: মাতেউস কুনিয়া




