ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালের স্বপ্ন শেষ বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমসের পর ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজেও ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারল না বাংলাদেশ। শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। এই হারে সিরিজের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে টাইগারদের।

ম্যাচটিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুতেই ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি। মাত্র ২৮ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরে যান টপ অর্ডারের চার ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত পারভেজ হোসেন ইমনের লড়াকু অর্ধশতকের সুবাদে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

জবাবে ১৬১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত অনায়াসেই জয় তুলে নেয় আফগানিস্তান। ৩৫.৩ ওভারে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে ১৬৩ রান করে জয় নিশ্চিত করে তারা।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪১ রানের ব্যবধানে জিততে পারলে ফাইনালে খেলার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যাটিংয়ে চরম ব্যর্থতায় সেই সমীকরণ মেলানো তো দূরের কথা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি দলটি।

শারজায় ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ওভারের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ১ রান করে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। পরের বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন।

দ্রুত চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দুজন গড়ে তোলেন ১৪৬ বলে ৯৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। তাদের প্রতিরোধে কিছুটা স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের শিবিরে।

তবে জুটি ভাঙার পর আবারও ছন্দপতন ঘটে ইনিংসে। মোহাম্মদ নবির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে ৪১ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মাত্র ২ রান করে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইমন। শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের ঘূর্ণিতে এলবিডব্লিউ হয়ে থামে তার ইনিংস। আউট হওয়ার আগে ৯৬ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭০ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার ব্যাটেই মূলত দেড়শ রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ।

ইমনের বিদায়ের পর বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডারও বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। ফলে ১৬০ রানেই শেষ হয় দলের ইনিংস। আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান এই লেগ স্পিনার। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইয়ামিন আহমেদজাই নেন ২টি করে উইকেট।

১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। তার জোড়া আঘাতে ৩৯ রানেই ২ উইকেট হারায় আফগানরা। রহমতউল্লাহ গুরবাজ ৬ এবং সেদিকুল্লাহ আতাল ৪ রান করে ফেরেন।

তবে দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর আর কোনো বিপদে পড়তে হয়নি আফগানিস্তানকে। তৃতীয় উইকেটে ইবরাহিম জাদরান ও রহমত শাহ দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। দলীয় ৯৫ রানে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ক্যাচ দিয়ে ৩৪ রান করা জাদরান ফিরলেও তাতে জয়ের পথে বাধা তৈরি হয়নি।

এরপর অধিনায়ক রহমত শাহ ও হাসমতউল্লাহ শাহিদি অবিচ্ছিন্ন থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। রহমত শাহ ৬৭ এবং শাহিদি ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন।

সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতা আর সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হতাশাজনক পারফরম্যান্সে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হলো টাইগারদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • বাংলাদেশ: ৪১.২ ওভারে ১৬০/১০
  • আফগানিস্তান: ৩৫.৩ ওভারে ১৬৩/৩
  • ফলাফল: আফগানিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।
spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles