বাংলাদেশের ডারউইন জয়ের স্মৃতি মনে করিয়ে দিলেন পাইবাস

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে দাপট দেখিয়ে অপরাজিত থেকেই ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফগানিস্তান। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে উঠেছে দলটি। আগামী ২৩ অক্টোবর ফাইনালে আফগানদের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।

শারজায় আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের সংগ্রহ থামে মাত্র ১৬০ রানে। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান। এমন সহজ জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রেখে ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আফগানিস্তানের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস কথা বলেছেন দলের পারফরম্যান্স ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ক্রিকেট নিয়ে। বাংলাদেশের ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে পাওয়া ঐতিহাসিক জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ক্রিকেটে উত্থান-পতন স্বাভাবিক এবং দলগুলোকে এমন সময়ের মধ্য দিয়েই যেতে হয়।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বেশ হতাশাজনক। দেশের বাইরে শেষ ১৬ ম্যাচের ১৪টিতেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাইবাস বলেন, ‘আমি আসলে এসব নিয়ে কথা বলতে পারছি না। এই ব্যাপারে কোনো মন্তব্য নেই আমার। এখানে আসার আগে তারা অস্ট্রেলিয়াতে দারুণ একটি জয় পেয়েছে, ঐতিহাসিক জয় ছিল।’

দল গঠনে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে আফগান কোচ আরও বলেন, ‘কোচ হিসেবে বিভিন্ন ধাপে আমাদের কাজ করতে হয়। বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন স্কোয়াড নিয়ে কাজ করতে হয়। অস্ট্রেলিয়াতে বাংলাদেশের জয়টা তাদের তৈরি করা বেঞ্চমার্ক ছিল। আমরা যখন ভারতের বিরুদ্ধে খেলেছি, তখনও নিজেদের সেরাটা দিতে চেয়েছিলাম। সেখান থেকেও আমরা কিছু শিক্ষা নিয়েছি। ক্রিকেট দলগুলোকে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতেই হয়।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রেকর্ডও হতাশাজনক। সর্বশেষ পাঁচ ওয়ানডেতে আফগানদের হারাতে পারেনি টাইগাররা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত এসব ম্যাচে বারবার ব্যর্থ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

এর আগের চার ম্যাচে আফগানিস্তানের কোচের দায়িত্বে ছিলেন জোনাথন ট্রট। এবার দলটির দায়িত্বে রিচার্ড পাইবাস। আগের ম্যাচগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। তবে সর্বশেষ ম্যাচের মূল্যায়নে নিজের দলের বোলিং ও পারফরম্যান্সের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

পাইবাস বলেন, ‘আগের চার ম্যাচ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, কারণ তখন আমি এই দলের কোচ ছিলাম না। এই ম্যাচ নিয়ে বলতে গেলে, পাওয়ারপ্লেটা মিশ্র ধরনের ছিল। কিছুটা বিশৃঙ্খল বোলিং হয়েছে আমাদের। এর সঙ্গে দারুণ বোলিংও ছিল। ম্যাচটা আমরা নিজেদের হাতে রেখেছি। আবুধাবিতেও প্লেয়ারদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল। আমি বাংলাদেশকে নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না।’

নিজেদের শক্তির জায়গা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আফগান কোচ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন দলের স্পিন আক্রমণ ও ফিল্ডিংয়ের কথা। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবী ও এএম গাজানফারের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট পাইবাস।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্লেয়াররা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছে। আমাদের স্পিন আক্রমণকে সামলানো বেশ কঠিন কাজ। রশিদ একজন শিকারী বোলার। তার নিয়ন্ত্রণ দুর্দান্ত। চাপের মধ্যেও ভালো করতে পারে। এর সঙ্গে নবী এবং এএম গাজানফারও দুর্দান্ত ছিল। ফিল্ডিংয়েও ভালো করেছি আমরা।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে প্রতিপক্ষ ভালো বোলিং করলেও পরে ঘুরে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব দিয়েছেন নিজের দলকে। পাইবাসের ভাষায়, ‘বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচটা ছিনিয়ে নিতে হয়েছে আমাদের। আমার মনে হয়, শুরুতে তারা ভালোই বল করেছিল। তবে পরে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়ে কমপ্লিট পারফরম্যান্স দেখাতে পেরেছি।’

অন্যদিকে, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আফগানিস্তান এখন শিরোপা জয়ের অপেক্ষায়। আগামী ২৩ অক্টোবর শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে তারা। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের, এবার দেশে ফেরার পালা টাইগারদের।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles