গ্যাবনকে হারিয়ে অ-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ

আজারবাইজানের বাকুতে ফিফা অ-১৫ বিশ্বকাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালে দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে গ্যাবনকে ১-০ গোলে হারিয়ে ‘ই’ টায়ারের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। ম্যাচের ১৪ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন রাতুল।

একই দিনে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। এর আগে কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল দলটি। গুরুত্বপূর্ণ দুই ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

আটজনের দল নিয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় প্রতি অর্ধে খেলা হয় ২০ মিনিট করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই গোলের সুযোগ কাজে লাগানো এবং রক্ষণ সামলে রাখা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাবনের বিপক্ষে সেই কাজটি ভালোভাবেই করেছে বাংলাদেশের যুবারা। প্রথমার্ধে রাতুলের করা গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব বাংলাদেশের জন্য খুব একটা স্বস্তির ছিল না। পাঁচ ম্যাচে একটি জয়, দুটি ড্র ও দুটি হারে গ্রুপে পঞ্চম স্থান নিয়ে পরের পর্বে খেলার সুযোগ পায় দলটি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় বাংলাদেশের ফুটবলাররা।

এরপর শুরু হয় নকআউট পর্বের লড়াই। শেষ ৩২-এর ম্যাচে সেশেলসের সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় নিয়ে পরের রাউন্ডে ওঠে দলটি।

শেষ ষোলোতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা ছিল। এবার টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। পরপর দুটি কঠিন ম্যাচে স্নায়ুর চাপ সামলে জয় পাওয়া দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

কোয়ার্টার ফাইনালে মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল আরও উজ্জ্বল। ৪-০ গোলের বড় জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পায় দলটি। আক্রমণভাগের কার্যকারিতা ও রক্ষণভাগের দৃঢ়তা—দুই দিকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশের যুবারা।

ম্যাচে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মোহাম্মদ বায়েজিদ। পরে পাভেল হাসানের জোড়া গোল এবং শিবাক কুমার মালির একটি গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। বড় জয়ের পর গ্যাবনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বাংলাদেশ।

রাতুলের গোলে স্বপ্নের ফাইনাল

গ্যাবনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শুরু থেকেই সতর্ক ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ম্যাচের ১৪ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রাতুল। তাঁর সেই গোলের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে গ্যাবন। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে দেয়নি।

বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। এই জয়েই নিশ্চিত হয় ‘ই’ টায়ারের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা।

এবার শিরোপার অপেক্ষা

গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশিত ফল না পেলেও নকআউট পর্বে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলাররা। টাইব্রেকারে দুটি জয়, মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে চার গোল এবং গ্যাবনের বিরুদ্ধে রক্ষণ সামলে গুরুত্বপূর্ণ জয়—সব মিলিয়ে দলটির লড়াকু মানসিকতা ফুটে উঠেছে।

ফিফা অ-১৫ বিশ্বকাপ অ্যান্ড ফেস্টিভ্যালের এই আসরে বিভিন্ন টায়ারে আলাদাভাবে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের সামনে এখন ‘ই’ টায়ারের শিরোপা জয়ের সুযোগ। ফাইনালে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের কিশোর ফুটবলের জন্য এটি হবে স্মরণীয় অর্জন।

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে একের পর এক জয়ে ফাইনালে ওঠা দলটির সামনে এখন শেষ চ্যালেঞ্জ। শিরোপা জয়ের মাধ্যমে দারুণ এই যাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইবে বাংলাদেশের যুবারা।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles