ভারতের বিপক্ষে সিরিজ এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অ্যাশেজের মতো মেগা সিরিজগুলোতে প্রত্যাশিত ফলাফল এনে দিতে না পারার দায় কাঁধে নিলেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। ইংল্যান্ডের টেস্ট কোচের পদ থেকে সদ্য বরখাস্ত হওয়া এই নিউজিল্যান্ডার স্বীকার করেছেন যে, অন্য কারো এখন এই দায়িত্ব নেওয়ার সঠিক সময় এসেছে। একই সাথে ব্যর্থতার জন্য ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের কাছে হার এবং বিদায়ের নেপথ্য
গত রবিবার, ১২ জুলাই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ECB) আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাককালামকে টেস্ট কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে তার চার বছরের টেস্ট অধ্যায়ের অবসান ঘটল, যেখানে ইংল্যান্ড ২৭টি জয়, ২০টি হার এবং ২টি ড্র দেখেছে।
ইসিবি-র প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড জানিয়েছেন, নিউজিল্যান্ডের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার এবং এর পরপরই টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকসের আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্তই ম্যাককালামকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যর্থতাই কাল হলো
ম্যাককালামের অধীনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বড় সিরিজগুলোতে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক:
- গত শীতকালীন মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ হার।
- ২০২৪ সালের শুরুতে ভারতের মাটিতে ৪-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ পরাজয়।
- ঘরের মাঠে উভয় দলের বিপক্ষেই ২-২ ব্যবধানে সিরিজ ড্র (কোনো সিরিজ জয় নেই)।
বড় সিরিজগুলোতে এই টানা ব্যর্থতা, দলের মাঠের বাইরের কিছু আচরণ এবং দলীয় সংস্কৃতি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নের কারণে শেষ পর্যন্ত ইসিবি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
“পিঠে একটা টোকা দেওয়া হলো এবং বলা হলো সময় শেষ”
ভারতের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজের আগে এজবাস্টনে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাককালাম তার বরখাস্ত হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। তিনি জানান, তাকে পদত্যাগ করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি, বরং সরাসরি চাকরিচ্যুতির কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল:
“আমাকে ডেকে পিঠে একটা টোকা দেওয়া হলো (বিদায় জানানো হলো)। আমি প্রাথমিকভাবে হতাশ হয়েছিলাম, তবে একই সাথে এই সিদ্ধান্তকে আমি পুরোপুরি সম্মান জানাই। আমরা এমন একটা পেশায় আছি যা ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল এবং সত্যি বলতে আমাদের ফলাফল যথেষ্ট ভালো ছিল না। এখন অন্য কারও এসে চেষ্টা করার সময় হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজগুলোই হলো ক্রিকেটের আসল মঞ্চ। আপনি যদি সেগুলোতে জিততে না পারেন, তবে আপনার লক্ষ্য পূরণ হয়নি। আমরা বড় সিরিজগুলো জিততে পারিনি, আর সেটার জন্য আমি কেবল দুঃখ প্রকাশ করতে পারি (ক্ষমা চাচ্ছি)।”
চার বছরের টেস্ট অধ্যায় এক নজরে
| মানদণ্ড | পরিসংখ্যান |
| মোট ম্যাচ | ৪৯টি |
| জয় | ২৭টি |
| হার | ২০টি |
| ড্র | ২টি |
ম্যাককালামের মতে, ফলাফল যা-ই হোক না কেন, গত চার বছর ছিল তার ২০ বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হাইলাইট বা গৌরবময় সময়।
পরবর্তী টেস্ট কোচ কে?
ইসিবি ইতিমধ্যেই নতুন টেস্ট কোচের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেছে এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। যার মধ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক সফল কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার প্রধান পছন্দের তালিকায় আছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
সাদা বলের ক্রিকেটে মনোযোগ দিতে চান ম্যাককালাম
টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেও ২০২৫ সালের শুরুতে দায়িত্ব নেওয়া সীমিত ওভারের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) কোচ হিসেবে বহাল থাকছেন ম্যাককালাম। আগামী বছরের নভেম্বর (২০২৭) পর্যন্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত তার চুক্তি রয়েছে।
টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ড সম্প্রতি ভারতকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে দারুণ ছন্দে রয়েছে। ম্যাককালাম জানান, এখন তার পুরো মনোযোগ ও শক্তি থাকবে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি দলের ওপর, যাতে ইংল্যান্ডকে আবারও বড় ট্রফি জেতানো যায় এবং ইংলিশ সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব হয়।


