চেন্নাইয়ের প্রধান কোচের দায়ীত্ব ছাড়লেন স্টিফেন ফ্লেমিং

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ইতিহাসে অন্যতম সফল ও দীর্ঘস্থায়ী এক জুটির অবসান ঘটল। চেন্নাই সুপার কিংসের (সিএসকে) প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিং। তার দীর্ঘ ও গৌরবময় মেয়াদে চেন্নাই মোট পাঁচটি আইপিএল এবং দু’টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি (CLT20) শিরোপা জিতেছে।

চেন্নাই সুপার কিংস ফ্র্যাঞ্চাইজি সোমবার জানিয়েছে যে, (উভয় পক্ষ) পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্লেমিং এবং সুপার কিংস ম্যানেজমেন্টের মধ্যে উন্মুক্ত ও সৎ আলোচনার পর অত্যন্ত সম্মান ও কৃতজ্ঞতার সাথে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথেও সম্পর্কের ইতি

চেন্নাই সুপার কিংসের পাশাপাশি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাধীন অন্য দুটি দল – জোবার্গ সুপার কিংস (SA20) এবং টেক্সাস সুপার কিংসের (MLC) প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন ফ্লেমিং। সম্প্রতি টেক্সাস সুপার কিংস ২০২৬ সালের মেজর লিগ ক্রিকেটে (MLC) তলানিতে থেকে আসর শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘোষণা আসে। এছাড়া এসএ-২০ (SA20) টুর্নামেন্টেও গত চার মৌসুমে জোবার্গ সুপার কিংস একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি।

টানা ব্যর্থতাই বিদায়ের কারণ

আইপিএলে টানা তিন মৌসুম শিরোপাহীন থাকার পর থেকেই ফ্লেমিংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন চলছিল। ২০২৫ সালের আইপিএলে পয়েন্ট টেবিলের সবার নিচে থাকার পর, ২০২৬ সালের আসরেও চেন্নাই অষ্টম স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করে। এই বছর তাদের শেষ লিগ ম্যাচের পর ফ্লেমিং নিজেই বলেছিলেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজিতে তার থাকা না-থাকাটা সম্পূর্ণ “ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত, আমার নয়।”

বিদায়বেলা ফ্লেমিংয়ের আবেগঘন বিবৃতি:

“খেলাধুলার জগতে ১৮ বছর একটা জীবনের সমান, আর আমি বুকভরা কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে কাটানো সময়টা আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। আমরা যা কিছু অর্জন করেছি, তা নিয়ে আমি গর্বিত। সিএসকে সবসময় আমার হৃদয়ের কাছাকাছি থাকবে।”

এক নজরে ফ্লেমিং-সিএসকে যুগের সাফল্য (২০০৯-২০২৬)


স্টিভেন ফ্লেমিং ২০০৮ সালের প্রথম আইপিএলে সিএসকে-র খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং এর পরের মৌসুমেই (২০০৯) প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন। অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সাথে তার অবিস্মরণীয় রসায়ন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জুটি হিসেবে গণ্য করা হয়।

আইপিএল শিরোপা (৫টি): ২০১০, ২০১১, ২০১৮, ২০২১ এবং ২০২৩।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টি শিরোপা (২টি): ২০১০ এবং ২০১৪।

প্লে-অফ: রেকর্ড ১২ বার।

ফাইনাল: রেকর্ড ১০ বার।

ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন

সিএসকে-র মালিক রূপা গুরুনাথ ফ্লেমিংয়ের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “স্টিফেন ফ্লেমিং প্রায় পুরোটা সময় জুড়ে আমাদের কোচিং ইউনিটের হৃৎপিণ্ড ছিলেন। মাঠের লড়াই শেষ হলেও তিনি দলের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন।”

চেন্নাই সুপার কিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেএস বিশ্বনাথন ফ্লেমিংয়ের প্রশংসা করে বলেন, “দলের ভেতর ধারাবাহিকতা, নম্রতা এবং দলকে সবার আগে রাখার সংস্কৃতি তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিং। মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝা এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনাই ছিল তার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

পরবর্তী পদক্ষেপ


২০১০ ও ২০১১ সালের টানা শিরোপা জয়, দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফিরে ২০১৮ সালের রূপকথার মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়া কিংবা ২০২২ সালে রবীন্দ্র জাদেজার কাছ থেকে ধোনি পুনরায় নেতৃত্ব নেওয়ার পর ২০২৩ সালের শিরোপা জয়, সবই ফ্লেমিংয়ের কোচিং ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত হয়ে থাকবে। ফ্লেমিং বিদায় নিলেও ব্যাটিং কোচ মাইক হাসি এবং বোলিং কোচ এরিক সাইমন্সের মতো অন্যান্য সহকারী স্টাফদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিএসকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

spot_imgspot_img
spot_img

Hot Topics

Related Articles