বাংলাদেশ সিরিজে শক্তিশালী দল ঘোষণা দক্ষিণ আফ্রিকার

বাংলাদেশ সিরিজে শক্তিশালী দল ঘোষণা! বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেম্বা বাভুমার নেতৃত্বাধীন দলে ফিরেছেন পেসার আনরিখ নরকিয়া ও ব্যাটার টনি ডি জর্জি। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন জুবায়ের হামজা। বাংলাদেশ সিরিজ

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী প্রোটিয়ারা। এবার ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষেও জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়া দলটি।

আগামী ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ডিপি ওয়ার্ল্ড ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্ট। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে।

চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি টনি ডি জর্জি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে এবার দলে ফিরেছেন তিনি। অন্যদিকে, কুঁচকির চোটে দুই সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকার পর স্কোয়াডে জায়গা ফিরে পেয়েছেন আনরিখ নরকিয়া। প্রথমবারের মতো দলে ডাক পাওয়া জুবায়ের হামজা খেলছেন ডিপি ওয়ার্ল্ড লায়ন্সের হয়ে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে নরকিয়ার সঙ্গে রয়েছেন কাগিসো রাবাদা ও ডেন প্যাটারসন। অলরাউন্ডার হিসেবে দলে আছেন করবিন বশ, মার্কো ইয়ানসেন ও উইয়ান মাল্ডার। স্পিন বিভাগে দায়িত্ব পালন করবেন কেশব মহারাজ ও সিমন হারমার। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলমান থাকায় এই সিরিজের দলে রাখা হয়নি লুঙ্গি এনগিডিকে।

বাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছে না দক্ষিণ আফ্রিকা। দলটির প্রধান কোচ শুকরি কনরাড জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্যের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের বিপক্ষেও ধরে রাখতে চান তারা।

কনরাড বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের একটি সিরিজ শেষ করার পর আমাদের লক্ষ্য সেই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজেও ধরে রাখা। গ্রীষ্ম মৌসুমে এটি আমাদের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ।

দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন নিয়ে কোচের পর্যবেক্ষণ, দেশটির অধিকাংশ উইকেটই পেস ও বাউন্স সহায়ক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ান্ডারার্সে স্পিনাররাও কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন। তাই পেস বোলিংয়ের বিকল্পগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রোটিয়া শিবির। কনরাড বলেন, ‘বাংলাদেশ কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে, তা আমরা জানি। হাইভেল্ডের কন্ডিশনে তাদের পেসাররা বেশ কার্যকর হয়ে উঠবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

এদিকে, টনি ডি জর্জির প্রত্যাবর্তন ও জুবায়ের হামজার অন্তর্ভুক্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ। প্রথম টেস্টের আগে প্রস্তুতির সময় কন্ডিশন পর্যালোচনা করে সেরা একাদশ সাজাতে চান তারা।

ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে কনরাড বলেন, ‘চোট কাটিয়ে টনির ফিরে আসাটা আমাদের জন্য ভালো খবর। পাশাপাশি জুবায়েরকে অন্তর্ভুক্ত করায় টপ অর্ডারে আমাদের বিকল্প আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাংলাদেশ ও স্বাগতিকদের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২২ সালে। দুই ম্যাচের সেই সিরিজে বাংলাদেশকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আসন্ন সিরিজের প্রস্তুতি নিতে আগামী ১১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে একত্রিত হবে প্রোটিয়া দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫ সদস্যের টেস্ট স্কোয়াড: টেম্বা বাভুমা (অধিনায়ক), মার্কেস অ্যাকারম্যান, ম্যাথু ব্রিটজকে, করবিন বশ, টনি ডি জর্জি, সিমন হারমার, জুবায়ের হামজা, মার্কো ইয়ানসেন, কেশব মহারাজ, এইডেন মার্করাম, উইয়ান মাল্ডার, আনরিখ নরকিয়া, ডেন প্যাটারসন, কাগিসো রাবাদা ও রায়ান রিকেলটন।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles