আগামী বছর ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের জন্য। বাংলাদেশ সফরের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ এবং ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ খেলবে ইংলিশরা। গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সিরিজের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে কঠিন হবে, তা নিয়ে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে তিনটি টেস্ট খেলবে ইংল্যান্ড। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সর্বশেষ চক্রের চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে সিরিজটি যে সহজ হবে না, তা বলাই যায়। অন্যদিকে, দীর্ঘ ১০ বছর পর বাংলাদেশ সফরে টেস্ট খেলতে আসবে ইংলিশরা। বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ শেষ হয়েছিল ১-১ সমতায়। এ ছাড়া নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের অ্যাশেজ সিরিজ খেলবে জো রুটরা।
চলমান বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দারুণ ছন্দে রয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের মাটিতে সিরিজ জয় এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের মতো সাফল্য পেয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে মাইকেল ভনের ধারণা, ইংল্যান্ডের জন্য এই তিন সিরিজের মধ্যে সবচেয়ে সহজ হবে অ্যাশেজ।
‘স্টিক টু ক্রিকেট’ পডকাস্টে ভন বলেন, ‘ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে তিনটি টেস্ট এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের মাটিতে দুটি টেস্ট খেলবে। এখন পর্যন্ত যা দেখছি, তাতে আগামী গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ খেলাই আমার কাছে তুলনামূলক সহজ মনে হচ্ছে। আমার মতে, এই তিনটি সিরিজের মধ্যে অ্যাশেজই সবচেয়ে সহজ।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে পরিসংখ্যানও তুলে ধরেছেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। তার মতে, ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রেকর্ডই অ্যাশেজকে তুলনামূলক সহজ করে তুলেছে।
ভনের ভাষায়, ‘২০০১ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে অস্ট্রেলিয়ার কাছে আমরা কোনো অ্যাশেজ সিরিজ হারিনি। আমি ভুল বলছি না। তিনটি সিরিজের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সহজ।’
তবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর নিয়ে মোটেও স্বস্তিতে নেই ভন। বিশেষ করে বাংলাদেশের স্পিন-সহায়ক কন্ডিশন এবং ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, বাংলাদেশের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ ইংল্যান্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ভন বলেন, ‘দেশের বাইরে দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। এরপর নিজেদের মাঠে বাংলাদেশ, ধুলোমাখা উইকেটে দুটি টেস্ট। অথচ আমরা আমাদের সেরা স্পিনারকে দলে নিচ্ছি না। আর সবশেষে নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়া। সব মিলিয়ে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।’




