বিশ্বকাপে ব্যর্থতার জন্য নিজেদের দায়ী করে আক্ষেপে পুড়ছে আলজেরিয়া। বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ম্যাচ শেষে হতাশ আলজেরিয়া কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেছেন, রক্ষণে নিজেদের করা ভুলই তাদের বিদায়ের প্রধান কারণ। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, সুইজারল্যান্ডই ছিল ম্যাচের সেরা দল এবং তারাই জয়ের যোগ্য ছিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সুইজারল্যান্ড। মাত্র ১০ মিনিটেই দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ব্রিল এমবোলো। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইউরোপের দলটি। বিরতির পর ৪৭তম মিনিটে দান এনদোয়ে দ্বিতীয় গোল করলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় সুইসরা।
এরপর বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি আলজেরিয়া। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পেতকোভিচ বলেন, “আমি এটাকে শুধু ডিফেন্ডারদের দোষ বলব না। পুরো দল হিসেবে আমরা যেভাবে রক্ষণ সামলেছি, তার মূল্য দিতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ খুব বেশি সুযোগ তৈরি করেনি, কিন্তু আমাদের ভুলের সুযোগ নিয়ে দুটি গোল করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ভুলটি করার পর প্রতিবারই আমরা শাস্তি পেয়েছি। অথচ সুযোগ আমাদেরও ছিল। কিন্তু ফুটবল এমনই, সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তার মূল্য দিতে হয়।’ ৬২ বছর বয়সী পেতকোভিচের জন্য এই হার ছিল আরও আবেগের। কারণ তিনি দীর্ঘ সাত বছর সুইজারল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ ছিলেন। সাবেক দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে হেরে বিদায় নেওয়ায় হতাশা লুকাননি তিনি।
বিশ্বকাপের উচ্চমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলজেরিয়া কোচ বলেন, ‘বাছাইপর্বে আমরা খুব ভালো রক্ষণ করেছি এবং খুব কম গোল হজম করেছি। কিন্তু বিশ্বকাপের মতো আসরে প্রতিপক্ষের মান অনেক উঁচু। এখানে ছোট ছোট ভুলও ক্ষমা করা হয় না। আমাদের আরও নিখুঁত হতে হতো।’
তবে বিদায়ের হতাশার মধ্যেও দলের অর্জনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন পেতকোভিচ। তার মতে, ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপে খেলা এবং ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপ পর্ব পেরোনো আলজেরিয়ার ফুটবলের জন্য বড় সাফল্য। শেষে তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই আরও দূর যেতে চেয়েছিলাম। সেটা সম্ভব হয়নি। এই টুর্নামেন্টে যে দুর্বলতাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী দল গড়তে হবে।’
