আমরা একই ভুল বারবার করছি-হৃদয়

জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের বিপক্ষেও হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচেই দলের পরাজয়ের পেছনে বড় কারণ ব্যাটিং ব্যর্থতা। দলের এমন পারফরম্যান্সে হতাশ ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তাঁর মতে, বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিট। তবে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনেক কিছু শেখার সুযোগও দেখছেন তিনি।

লিটন দাসের চোটের কারণে ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব পান হৃদয়। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে এই ফরম্যাটে নিজের যাত্রাটা সুখকর হলো না তাঁর। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটি আফগানরা জিতেছে ৮৭ বল হাতে রেখেই।

দুই ম্যাচেই বাংলাদেশের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল ব্যাটিং বিপর্যয়। ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন হৃদয়। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমরা একই ভুল বারবার করছি। ব্যাটিং ইউনিট আবারও ভুল করেছে। শুরুতেই আমরা কিছু উইকেট হারিয়ে ফেলি। এটাই হারের মূল কারণ।’

ব্যাটিং অর্ডার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায়। এ বিষয়ে হৃদয় জানান, বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে তাঁর মতে, টপ অর্ডারের দ্রুত উইকেট হারানোই পরাজয়ের বড় কারণ। এ নিয়ে কাজ করার কথাও জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

আসন্ন এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন হৃদয়। এই সিরিজের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। হৃদয়ের ভাষায়, ‘এই সিরিজ থেকে আসলে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছুই আছে। ব্যাটিংয়ে, এমনকি ফিল্ডিংয়েও আমাদের কিছু জায়গায় উন্নতি করতে হবে। আমাদের হাতে সময় আছে। এশিয়া কাপ আবার আমাদের দেশেই হবে। আশা করি, ঘুরে দাঁড়াব।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬০ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে ৭ উইকেট হাতে রেখেই মাত্র ৩৫.৩ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানরা। বাংলাদেশের সংগ্রহ আরও ৪০-৫০ রান বেশি হলে ম্যাচের চিত্র বদলাতে পারত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় জানান, ঘাটতিটা ছিল আরও বড়।

তিনি বলেন, ‘না, ৪০-৫০ রান না। আমরা অন্তত ১০০ রান কম করেছি। এটা ব্যাটিংয়ের জন্য খুবই ভালো উইকেট। টপ অর্ডার থেকে বড় রান করতে হবে।’

পরপর দুই ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতার পর বাংলাদেশের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। এশিয়া কাপের আগে ব্যাটিং ও ফিল্ডিংয়ে ঘাটতি কাটিয়ে দল কতটা প্রস্তুতি নিতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

spot_imgspot_img
spot_img

Related Articles