জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের আগে নিজেদের প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী ফুটবল দল। আম্মানের জেএফএ ফিল্ডে আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত শেষ অনুশীলন করেছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্য আরও একবার যাচাই করে নিতে প্রস্তুত দলটি।

শেষ দিনের অনুশীলনে খেলোয়াড়দের শারীরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি বল দখল, পাসিং ও সেট-পিসের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুরুতে ওয়ার্ম-আপের মাধ্যমে অনুশীলন শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে ছোট জায়গায় বল দখলের অনুশীলন এবং ম্যাচ পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন কৌশল নিয়ে কাজ করেন কোচিং স্টাফরা। বিশেষ করে সেট-পিস থেকে আক্রমণ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর কৌশলও ঝালিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনুশীলনজুড়ে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিল দারুণ উদ্যম ও আত্মবিশ্বাস। দলের প্রত্যেক সদস্যই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ম্যাচের আগে দলের সব খেলোয়াড়ই সুস্থ আছেন। ফলে জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
আগামীকাল আম্মানের জেএফএ ফিল্ডে জর্ডান অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় শুরু হবে। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৮টায়।
জর্ডানের বিপক্ষে এই ম্যাচ শুধু আরেকটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বাংলাদেশের তরুণীদের জন্য এটি বড় একটি প্রস্তুতির মঞ্চ। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব। আগামী ৫ অক্টোবর উজবেকিস্তানে শুরু হবে সেই বাছাইপর্ব। তার আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ জর্ডানের বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে আরও গোছানো ফুটবল খেলতে চাইবে বাংলাদেশের মেয়েরা। বিশেষ করে বল দখল ধরে রাখা, দ্রুত আক্রমণে ওঠা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দিকে নজর থাকবে দলের। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের সমন্বয়ও হবে কোচিং স্টাফদের অন্যতম মনোযোগের জায়গা।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বয়সভিত্তিক ফুটবলে নিয়মিত ভালো করার লক্ষ্য বাংলাদেশের। সেই ধারাবাহিকতায় এএফসি অনূর্ধ্ব-১৭ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের আগে জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রতিপক্ষের শক্তি ও গতি সামলে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলে বাছাইপর্বের আগে আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে বাংলাদেশের।
সবশেষ অনুশীলনে খেলোয়াড়দের দৃঢ়তা ও মনোযোগ তাই আশাবাদী করে তুলছে দলকে। এখন মাঠের লড়াইয়ে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটানোর পালা। জর্ডানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কিশোরীরা কতটা উন্নতি দেখাতে পারে, সেটিই হবে দেখার বিষয়।


