তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের দেশ সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

গোলের পর তপু বর্মন ও হামজা চৌধুরীর উল্লাস।

গোলের পর তপু বর্মন ও হামজা চৌধুরীর উল্লাস। ছবি : বাফুফে ফেসবুক পেইজ।

ইউরোপের কোনো দেশের মাটিতে তাদেরই হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন রূপকথা লিখল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে শুক্রবার রাতে স্বাগতিক সান মারিনোর মুখোমুখি হয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমজমাট এই লড়াইয়ে সান মারিনোকে ২–১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ফুটবল ইতিহাসে ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে এটিই প্রথম জয়।

থমাস ঢুলির দলে শুরুর একাদশেই ছিলেন জামাল ভূঁইয়া। ছবি: বাফুফে ফেসবুক পেইজ।

ঐতিহাসিক এই জয়ের দিনে বাংলাদেশের ডাগআউটে অভিষেক হলো নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির। জার্মান বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই ফুটবলারের অধীনে প্রথম ম্যাচেই স্মরণীয় এক জয় পেল বাংলাদেশ। এদিন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়াকে শুরুর একাদশে রেখেই রণকৌশল সাজিয়েছিলেন ডুলি।

তপুর হেড থেকে করা গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ।

তপুর জোড়া গোল ও প্রথমার্ধের রোমাঞ্চ

ম্যাচের শুরুতে ইউরোপীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নিলেও গোল পেতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে। ম্যাচের ১৯ মিনিটেই দলকে উল্লাসে ভাসান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে চমৎকার ক্রস বাড়ান শেখ মোরসালিন। নিখুঁত হেডে বল সান মারিনোর জালে জড়ান তপু। গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের গগনবিদারী চিৎকারে তখন প্রকম্পিত হয়ে ওঠে সান মারিনোর স্টেডিয়াম।

গ্যালারি জুড়ে ছিলো বাংলাদেশী সমর্থকদের উল্লাস। ছবি: বাফুফে ফেসবুক পেইজ।

তবে ম্যাচের ৩১ মিনিটে রক্ষণভাগের অসতর্কতা এবং গোলরক্ষক মিতুল মারমার ভুলে গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। ফলে ১–১ সমতা নিয়ে প্রথমার্ধের বিরতিতে যায় দুদল।

আক্রমণাত্মক দ্বিতীয়ার্ধ ও শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা

বিরতির পর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে কোচ ডুলির শিষ্যরা। তবে ফরোয়ার্ড সোহেল রানা ও ফাহিমের সহজ সুযোগ হাতছাড়ার কারণে গোল আসছিল না। আক্রমণের ধার বাড়াতে দ্বিতীয়র্ধে শমিত সোম, সোহেল রানা জুনিয়র এবং জায়ানকে মাঠে নামান কোচ।

অন্যদিকে, সান মারিনোও মাঝেমধ্যে প্রতিআক্রমণে গিয়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহামিদুলকে রক্ষণভাগে নামিয়ে রক্ষণ দুর্গ আরও মজবুত করেন ডুলি।

বলের দখল নিয়ে দু’দলের খেলোয়াড়দের লড়াই। ছবি: বাফুফে ফেসবুক পেইজ।

ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ৮৬ মিনিটে আবারও ত্রাতা হয়ে আসেন তপু বর্মণ। নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে বাংলাদেশকে এনে দেন ২–১ ব্যবধানের এক অবিস্মরণীয় ও ঐতিহাসিক জয়। এই জয়ের ফলে নতুন কোচের অধীনে এক আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশের পথচলা শুরু হলো।

Exit mobile version