দাপটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ

দাপটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ

দাপটে জয়ে সমতায় বাংলাদেশ। নাহিদ রানার পাঁচ উইকেটের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশ। তার গতিময় ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে প্রতিপক্ষের। এরপর ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স দেখান তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনই দারুণ ফিফটি করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন।

শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও তাদের ধৈর্যশীল ও আত্মবিশ্বাসী ইনিংসে ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আসে। শেষ পর্যন্ত দাপুটে পারফরম্যান্সে ৬ উইকেটে সহজ জয় তুলে নেয় টাইগাররা। যেখানে বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই ছিল সমান আধিপত্য।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার মিরপুর শের-ই বাংলায় টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। শুরুটা দেখেশুনে করলেও পঞ্চাশের আগেই টপ-অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় নিউজিল্যান্ড।  কিউই শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন নাহিদ রানা। দলীয় ২৫ রানের মাথায় ওপেনার হেনরি নিকোলসকে এলবিডব্লিউ-এর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। সাজঘরে ফেরার আগে ২৬ বলে ১৩ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

 ইনিংসের  নবম ওভারে বল করে এসে আবারও উইকেট তুলে নেন নাহিদ রানা। এবার তার শিকার উইল ইয়ং। নাজমুল হোসেন শান্ত’র হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৭ বলে মাত্র ২ রান। টম ল্যাথামও এদিন উইকেটে থিতু হতে পারেননি। ৩৫ বল খেলে মাত্র ১৪ রান করেই সৌম্য সরকারের বলে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

 চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলের হাল ধরেন মুহাম্মদ আব্বাস ও নিক কেলি। তারা দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৬৬ বলে ৫৬ রান। তবে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। দলীয় ১০৮ রানের মাথায় মুহাম্মদ আব্বাসকে লিটনের ক্যাচ বানান নাহিদ। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ১৯ রান।  পঞ্চম উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালান ডিন ফক্সক্রফট ও নিক কেলি। তবে এই জুটিকে বেশিদূর এগোতে দেননি শরিফুল ইসলাম। ১০২ বলে ৮৩ রান করা নিক কেলিকে তাওহীদ হৃদয়ের ক্যাচ বানান বাঁহাতি এই পেসার।

এরপর আর কেউই তেমন একটা সুবিধা করতে পারেননি। বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল ডিন ফক্সক্রফট, নাথান স্মিথ ও ব্লাইর ট্রিকনার দুই অঙ্কের ঘর ছুঁতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতেই ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।  বাংলাদেশের হয়ে মাত্র ৩২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করেছেন নাহিদ রানা। সমান রান দিয়ে ২ উইকেট তোলেন শরিফুল ইসলাম। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন সৌম্য সরকার, তাসকিন আহমেদ এবং রিশাদ হোসেন।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৫.৩ ওভারে ৪ উইকেটে হারিয়ে ১৯৯ রান পূর্ণ করে বাংলাদেশ। অবশ্য ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ওপেনার সাইফ হাসান ৮ ও সৌম্য সরকার ৮ রান করে বিদায় নেন। তবে নাজিদ হাসান দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করে বিদায় নেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত তুলে নেন ফিফটি।

৭১ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর চোটের কারণে ব্যাটিং না করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। লিটন ৭ রানে ফিরে গেলেও তানজিদ হাসান ৩০ ও ৮ রান করে অফরাজিত থাকেন।

Exit mobile version