বেশ কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ সফরে পাকিস্তানের ওয়ানডে সিরিজের সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। আজ শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে ১৫ জনের যে দল ঘোষণা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সেখানে অভিষেক না হওয়া ৬ ক্রিকেটার রয়েছেন। সবমিলিয়ে ঘরের মাটিতে এই সিরিজ জিতে র্যাঙ্কিং বাড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশ দলের।
আগামী বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে অন্তত ৯ নম্বরে থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকে। এখন বাংলাদেশ আছে ১০ নম্বরে। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ দলের মোক্ষম সুযোগ র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে আসার।
আইসিসির র্যাঙ্কিং পূর্বাভাস থেকে দেখা যাচ্ছে, ঘরের মাঠে এই সিরিজটি অন্তত ২-১ ব্যবধানে জিতলেই বাংলাদেশ উঠবে ৯ নম্বরে। এখনে দশে থাকা বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ৭৬। ৯ নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং পয়েন্ট ৭৭। পাকিস্তান দল ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে আছে চার নম্বরে। তাদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতলে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরে উঠে আসবে বাংলাদেশ দল।

আর যদি ৩-০ ব্যবধানে বাংলাদেশ জিততে পারে, সেক্ষেত্রে রেটিং পয়েন্ট বেড়ে হবে ৮১। আর যদি বাংলাদেশ সিরিজের একটি ম্যাচ মাত্র জিততে সক্ষম হয় তখন রেটিং হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমান ৭৭। ন্যুনতম ব্যবধানে পিছিয়ে ১০ নম্বরেই থাকবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ দলের জন্য র্যাঙ্কিং বাড়ানো কেন জরুরী
এই রেটিং বাড়ানো কিংবা র্যাঙ্কিং কেন জরুরী? ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য অন্তত আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে থাকতে হবে বাংলাদেশ দলকে। ৩১ মার্চ ২০২৭ সালে র্যাঙ্কিংয়ের যে হালনাগাদ হবে সেদিন ওই ৯ নম্বরে থাকতে হবে।
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া যৌথভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। টেস্ট খেলুড়ে আয়োজক দেশ হওয়ার কারণে সরাসরি এই বিশ্বকাপ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে। এ দুটি দলের বাইরে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮টি দলও সরাসরি খেলার সুযোগ করে নেবে।
যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা এই মুহূর্তে র্যাঙ্কিংয়ে পাঁচে আছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ৮ নম্বরের নিচে নামার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে, সে কারণে তাদের বাইরে আরও শীর্ষ ৮টি দলের সুযোগটা থাকবে। জিম্বাবুয়ে ১১ নম্বরে মাত্র ৫৪ রেটিং নিয়ে। এই সময়ের মধ্যে তাদেরও সম্ভাবনা ক্ষীণ সেরা আটে ওঠার।
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা
আয়োজক ও র্যাঙ্কিংসহ ১০ দল সরাসরি আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলবে। বাকি চারটি দল আসবে আঞ্চলিক বাছাই খেলে। অর্থাৎ আগামী বিশ্বকাপ ১৪টি দল খেলবে। সার্বিক কারণে বাংলাদেশের জন্য রেটিং বাড়ানো এবং র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে ওঠা অতীব জরুরি।

এ কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ দলের জন্য। ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলে চ্যালেঞ্জটা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। তাই এটাই নিজেদের সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার মোক্ষম সুযোগ।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেকোনো সফরকারী দলের জন্যই বেশ কঠিন ভেন্যু। পাকিস্তানের বিপক্ষে এখানেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ আগামী ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ। সেদিক থেকে একটি প্লাস পয়েন্ট আগে থেকেই আছে স্বাগতিকদের জন্য।
যে কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে মোক্ষম সুযোগ
এবার পাকিস্তানের যে দলটি আসছে সেখানে নেই অভিজ্ঞ বাবর আজম ও ফখর জামানের মতো দুই তারকা ক্রিকেটার। তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের সুযোগ আরও বেড়েছে ১৫ সদস্যের দলে ৬ জন নতুন মুখকে রাখার কারণে।

পাকিস্তানের এই দলে ৬ জন ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন। এই ৬ জনের মধ্যে একজন হচ্ছেন এবার টি-২০ বিশ্বকাপে রেকর্ড ৩৮৩ রান করা সাহিবজাদা ফারহান। বাকিরা হচ্ছেন- আবদুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, মুহাম্মদ গাজী ঘোরি, সাদ মাসুদ এবং শামিল হোসেন। তারা পাকিস্তান শাহীন্সের (‘এ’ দল) নিয়মিত সদস্য।
এরপরেও দলের বোলিং ও ব্যাটিং শক্তি অবশ্য খুব বেশি কমছে না পাকিস্তানের। কারণ নিয়মিত ওয়ানডে খেলা ৯ জনের সঙ্গে বড়জোর ২ জনকে অভিষেক করাতে হবে। তাছাড়া পেস ও স্পিন আক্রমণে নিয়মিত তারকাদের সবাই থাকছেন। এজন্য একেবারে সহজও হবে না বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজ জেতা। ৮ই মার্চ শাহীন শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















