আসন্ন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এর মাঠের লড়াই শুরুর আগে এক ভিন্নধর্মী ও সতেজ অনুশীলনে মেতে উঠেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ‘অ্যাক্টিভ রিকভারি ডে’ বা সক্রিয়ভাবে ক্লান্তি দূর করার অংশ হিসেবে আজ ভারতের গোয়ার সমুদ্রসৈকতে এক ব্যতিক্রমী সকাল পার করলেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চেনা মাঠ ছেড়ে সমুদ্রের বালিয়াড়িতে মারিয়ারা
প্রতিদিনের চেনা ফুটবল মাঠের চেনা আবহ থেকে বেরিয়ে আজ সকাল ৭:৩০ টা থেকে ৮:৩০ টা পর্যন্ত দলের সকালের সেশনটি অনুষ্ঠিত হয় টিম হোটেলের ঠিক পাশেই অবস্থিত সমুদ্রসৈকতে। দীর্ঘ ভ্রমণ ও টানা অনুশীলনের ক্লান্তি দূর করতে এবং খেলোয়াড়দের মানসিক সতেজতা ফেরাতে এই পরিবেশ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খেলোয়াড়েরা সম্পূর্ণ খালি পায়ে সমুদ্রের হাওয়া গায়ে মেখে দারুণ উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ইতিবাচক শক্তি নিয়ে এই সেশনে অংশ নেন।
- সকালের শুরু: উপকূলীয় এলাকায় হালকা দৌড় (কোস্টাল রানিং) এবং স্ট্রেচিং বা শরীর গরম করার ব্যায়ামের মাধ্যমে শুরু হয় কার্যক্রম।
- সৈকতে ফুটবল: এরপর খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে ৬ বনাম ৬ জনের ছোটোখাটো (স্মল-সাইডেড) ম্যাচে মেতে ওঠেন।
গত রাতের বৃষ্টির পর গোয়ার মেঘলা সকালের আবহাওয়া সৈকতে ফুটবল খেলার জন্য একদম আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছিল। এই আনন্দঘন অনুশীলন খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দলের ভেতরের বন্ধন (টিম বন্ডিং) আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করেছে।
ট্রফি উন্মোচন ও অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্স
সকালের এই সতেজ সেশনের পর, দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে আইটিসি গ্র্যান্ড গোয়ার ‘কানসোলিম হল’-এ টুর্নামেন্ট পূর্ববর্তী অফিশিয়াল প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সবকটি দলের প্রধান কোচ এবং অধিনায়কেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস কনফারেন্স শেষেই জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সাফের অফিশিয়াল ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান, যেখানে অধিনায়ক মারিয়া মান্দার চোখেমুখে ছিল ট্রফি ধরে রাখার আত্মবিশ্বাস।
পরবর্তী পরিকল্পনা ও মিশন শুরুর অপেক্ষা
আজকের এই রিল্যাক্সড ডে শেষেই আগামীকাল থেকে আবারও পুরোদমে সিরিয়াস অনুশীলনে ফিরছে দল। আগামীকাল সকাল ৭:০০ টা থেকে ৮:৩০ টা পর্যন্ত ‘ডন বস্কো ট্রেনিং গ্রাউন্ড’ এ কঠোর অনুশীলনে নামবেন মারিয়া-ঋতুপর্ণারা।
আগামীকাল থেকেই টুর্নামেন্টের পর্দা উঠলেও, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক মিশন শুরু হচ্ছে আগামী ২৮ মে ২০২৬ তারিখে, যেখানে তাদের প্রথম প্রতিপক্ষ মালদ্বীপ নারী ফুটবল দল। সৈকতের এই ফুরফুরে মেজাজ ধরে রেখে মাঠের লড়াইয়েও বাংলাদেশ দল নিজেদের সেরাটা দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা দেশের ফুটবলপ্রেমীদের।
