চীনের সানিয়াতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান বিচ গেমসে এক নারী লিয়াজো অফিসারের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য নজির মল্লিককে এক বছরের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত ৫ মে গঠিত চার সদস্যের সেফগার্ডিং কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ফেডারেশন সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশরাফ এই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেন।
বাংলাদেশ ক্রীড়াঙ্গনে সাধারণত এই ধরণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার প্রবণতা থাকলেও, এবার একজন বিদেশি নাগরিকের অভিযোগকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা তৈরি করা হলো।
শাস্তির বিবরণ ও নির্দেশনা
ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, শাস্তির মেয়াদকালীন সময়ে অভিযুক্ত নজির মল্লিক নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকবেন:
- আগামী এক বছর ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক কোনো গেমসে তাকে পাঠানো হবে না।
- নারী দলের কোনো ক্যাম্প বা সরাসরি নারী দলের সাথে তিনি সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।
বিষয়টি ইতিমধ্যে চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনকে (বিওএ) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সেফগার্ডিং কমিটির তৎপরতা
ফুটবল বা ক্রিকেটের মতো বড় ফেডারেশনগুলোতে সেফগার্ডিং কমিটি তেমন সক্রিয় না থাকলেও, অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাকের বিশেষ উদ্যোগে এই কমিটি বেশ জোরালো ভূমিকা পালন করছে। এই কমিটির গঠন নিম্নরূপ:
| পদের নাম | কর্মকর্তার নাম |
| আহ্বায়ক | শর্মিষ্ঠা রায় (সাবেক অ্যাথলেট) |
| সদস্য | শিরিন আক্তার (দ্রুততম মানবী) |
| সদস্য | মজিবুর রহমান মল্লিক (নির্বাহী সদস্য) |
| সদস্য সচিব ও প্রধান অফিসার | ড. ওয়াজিদা বানু |
অভিযুক্ত নজির মল্লিক স্বয়ং সেফগার্ডিং কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান মল্লিকের ভাই। তা সত্ত্বেও কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত সম্পন্ন করেছে এই কমিটি।
ফেডারেশনের বক্তব্য
এই শাস্তি প্রসঙ্গে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশরাফ জানান:
“আমাদের সেফগার্ডিং কমিটির অফিসার সংশ্লিষ্ট সবার সাথে কথা বলে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন। এরপর আমার কাছে যে সুপারিশ জমা দেওয়া হয়েছে, তার আলোকেই আগামী এক বছর তাকে নারী দল ও যেকোনো গেমস থেকে দূরে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
যদিও সম্প্রতি শেষ হওয়া ৪৯তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে নজির মল্লিকের উপস্থিতি এবং নারীদের পুরস্কার বিতরণে অংশ নেওয়া নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়। এই প্রসঙ্গে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম স্পষ্ট করে বলেন:
“জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে নারী-পুরুষ উভয়েই অংশ নেয়। তাকে নির্দিষ্ট করে নারী দলের ক্যাম্প ও নারী দলের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করতে বলা হয়েছে। ফেডারেশনের অন্য সাধারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে তার কোনো বাধা নেই।”
উল্লেখ্য, সানিয়াতে অনুষ্ঠিত সেই এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ মোট ছয়টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে নারী কাবাডি দল দেশের জন্য ব্রোঞ্জ পদক বইয়ে আনে। তবে মাঠের সেই সাফল্যের পাশাপাশি ম্যানেজারের এই আচরণ ও পরবর্তী শাস্তির ঘটনাটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি বড় বার্তা দিল।
