অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের জন্ম দিলেন কেনিয়ার দৌড়বিদ সেবাস্তিয়ান সাওয়ে। ম্যারাথন দৌড়ে প্রথমবারের মতো দুই ঘণ্টার বাধা ভেঙে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। রোববার অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় সাওয়ে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। ম্যারাথনের ইতিহাসে যা নতুন বিশ্বরেকর্ড। এই ইভেন্টের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অর্জন।
এর আগে ২০২৩ সালে শিকাগো ম্যারাথনে ২ ঘণ্টা ৩৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন কেনিয়ারই আরেক তারকা দৌড়বিদ কেলভিন কিপটাম। তবে ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় তার অকাল মৃত্যু ক্রীড়াঙ্গনে বড় শোকের ছায়া ফেলে। সেই রেকর্ড ভেঙে এবার নতুন ইতিহাস লিখলেন তারই স্বদেশী সাওয়ে। যা কেনিয়ার দীর্ঘদিনের দৌড়ের ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
১ম তিনজনই ভেঙেছেন আগের বিশ্বরেকর্ড
এই প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, শুধু সাওয়ে নন প্রথম তিনজনই আগের বিশ্ব রেকর্ড অতিক্রম করেছেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইথিওপিয়ার ইয়োমিফ কেজেলচা প্রথমবার ম্যারাথনে অংশ নিয়েই চমক দেখিয়েছেন। তিনি দৌড় শেষ করেন ১ ঘণ্টা ৫৯ মিনিট ৪১ সেকেন্ডে, যা অভিষেকেই ইতিহাসের দ্রুততম সময়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাওয়ের সঙ্গে তার তীব্র লড়াই ছিল দর্শকদের জন্য দারুণ রোমাঞ্চকর।
তৃতীয় স্থানে থাকা উগান্ডার জ্যাকব কিপলোমো-ও ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তিনি ২ ঘণ্টা ২৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন, যা আগের বিশ্ব রেকর্ডের চেয়েও দ্রুত। ফলে এই প্রতিযোগিতা একসঙ্গে তিনটি অসাধারণ পারফরম্যান্সের সাক্ষী হয়ে থাকে।
দুই ঘণ্টার বাধা ভাঙার লক্ষ্য নিয়েই ট্র্যাকে নেমেছিলেন সাওয়ে। দৌড় শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
“আমার খুব ভালো লাগছে, আমি সত্যিই আনন্দিত। এই দিনটা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি। শুরু থেকেই আমরা ভালোভাবে দৌড় শুরু করেছিলাম। শেষ মুহূর্তে নিজেকে খুব শক্তিশালী মনে হচ্ছিল। ফিনিশিং লাইনে পৌঁছে সময় দেখার পর উত্তেজনায় ভরে উঠেছিলাম।”
তিনি আরও বলেন,
“লন্ডনে দ্বিতীয়বার আসা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমি এই প্রতিযোগিতার জন্য দীর্ঘ চার মাস কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছি। আজ সেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছি।”
এই ঐতিহাসিক অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ম্যারাথন দৌড়ে মানুষের সক্ষমতার সীমা যে আরও এগিয়ে যেতে পারে, তারই প্রমাণ দিলেন সাওয়ে। ভবিষ্যতে এই রেকর্ড আরও উন্নত হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে, তবে আপাতত এই সাফল্য ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩




















