বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তারিক কাজী নতুন এক ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন। ভুটান প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পারো এফসিতে যোগ দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন প্রথম বাংলাদেশি পুরুষ ফুটবলার, যিনি ভুটানের কোনো ক্লাবে পেশাদারভাবে খেলতে যাচ্ছেন। দেশের ফুটবলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি গর্বের মুহূর্ত।
২৫ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাক ইতোমধ্যেই তার নতুন ক্লাবের সঙ্গে অনুশীলন শুরু করেছেন। সোমবার দলের প্রথম অনুশীলন সেশনে অংশ নিয়ে তিনি সতীর্থদের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। ক্লাব কর্তৃপক্ষও তাকে ঘিরে বেশ আশাবাদী। পারো এফসি তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারিক কাজীকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে বলেছেন,
তিনি একজন ‘অভিজ্ঞতা, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বগুণে সমৃদ্ধ’ ডিফেন্ডার, যিনি দলের রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
ফিনল্যান্ডে জন্ম নেওয়া তারিক কাজী দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের ফুটবলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তার দৃঢ় উপস্থিতি এবং রক্ষণে স্থিরতা তাকে আলাদা করে তুলেছে। তার ইউরোপীয় ফুটবল পরিবেশে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এবং ট্যাকটিক্যাল জ্ঞান তাকে আরও পরিণত খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা পারো এফসির জন্য বাড়তি শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভুটান প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২ মে। এই মৌসুমে পারো এফসির হয়ে তারিক কাজীর পারফরম্যান্স কেমন হয়, তা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা। বিদেশি লিগে খেলার এই সুযোগ তার ক্যারিয়ারের জন্য যেমন বড় মাইলফলক, তেমনি বাংলাদেশের ফুটবলের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, তারিক কাজীর এই পদক্ষেপ নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রমাণ করার যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই ডিফেন্ডার। এখন দেখার বিষয়, ভুটানের মাটিতে তিনি কতটা সফলভাবে নিজের ছাপ রাখতে পারেন এবং পারো এফসিকে নতুন মৌসুমে কতটা এগিয়ে নিতে পারেন।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















