ভারতের মাঠে থামল বাংলাদেশের জয়যাত্রা

ভারতের মাঠে থামল বাংলাদেশের জয়যাত্রা

ভারতের মাঠে থামল বাংলাদেশের জয়যাত্রা । দুই আসর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে যে আধিপত্য গড়ে তুলেছিল বাংলাদেশ, এবার সেখানে ধাক্কা খেল পিটার বাটলারের দল। গোয়ায় অনুষ্ঠিত সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালের পর আবারও ভারতের বিপক্ষে পরাজয়ের স্বাদ পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ভারত। বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রেখে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে তারা। অন্যদিকে বাংলাদেশ গুছিয়ে খেলার চেষ্টা করলেও মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগে ছন্দ খুঁজে পায়নি।

এই ম্যাচে একাদশে বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনেন কোচ পিটার বাটলার। নিয়মিত অধিনায়ক আফিদা খন্দকারকে বেঞ্চে রেখে মাঠে নামানো হয় সুরমা জান্নাতকে। আগের ম্যাচ মিস করা মনিকা চাকমা ফিরলেও শিউলি আজিম ছিলেন না শুরুর একাদশে।

বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছিল ম্যাচের শুরুতেই। মালদ্বীপের বিপক্ষে ১১ সেকেন্ডে গোল করা আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী এবারও একটি ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সেটিকে গোলে পরিণত করতে পারেননি।

৩৫ মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোল পায় ভারত। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা উড়ন্ত বল পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হলে বক্সের ভেতর বল পেয়ে কোনাকুনি শটে জাল খুঁজে নেন পিয়ারি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার চেষ্টা করতে গিয়ে আরও বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। বক্সের মধ্যে ভারতীয় ফরোয়ার্ডকে ফাউল করেন সুরমা জান্নাত। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দিলে বদলি খেলোয়াড় লিন্ডাকম তা থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন।

দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচে ফেরার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে যায় বাংলাদেশের। শেষদিকে মালাভিকার গোলে ব্যবধান ৩-০ করেন ভারত, নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের জয়।

দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। হারলেও গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। আগামী ৩ জুন ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নেপাল।

স্কোরলাইনই শুধু নয়, পারফরম্যান্সও চিন্তায় ফেলবে বাংলাদেশকে। মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের ম্যাচেও রক্ষণে দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। ভারতের বিপক্ষেও দেখা যায়নি নিয়ন্ত্রিত ও পরিকল্পিত ফুটবল। ঋতুপর্ণা চাকমার কয়েকটি দূরপাল্লার প্রচেষ্টা ছাড়া আক্রমণে তেমন কোনো হুমকি তৈরি করতে পারেনি দল। সেমিফাইনালের আগে তাই নিজেদের ছন্দ ফিরে পাওয়ার বড় চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে।

Exit mobile version