আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে আবার ইউরোপ সেরা পিএসজি। শনিবার রাতে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে পুসকাস অ্যারেনায় উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের জমজমাট ফাইনাল ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) টাইব্রেকারে জয়লাভ করে। রিয়াল মাদ্রিদের পর টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা দ্বিতীয় দল পিএসজি।
গতবারই প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার পর আবার ইউরোপ সেরা পিএসজি উৎসবে মাতার জন্য অপেক্ষা করেছে দীর্ঘক্ষণ। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ সমতায় ড্র থাকার পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলা হয়েছে। সেখানেও ফয়সালা হয়নি শিরোপার। অবশেষে স্নায়ু টানটান টাইব্রেকারে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠত্ব রেখে দেয় ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা।

পুসকাস অ্যারেনায় লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। এবার চ্যাম্পিয়নস লিগের পারফরম্যান্স বিবেচনায় সবাই পিএসজিকে এগিয়ে রাখলেও দুর্বার নৈপুণ্য দেখিয়েছে আর্সেনাল। গানারদের তাই সাফল্য ধরা দিয়েছে বেশ দ্রুত সময়ের মধ্যে। ম্যাচের ৫ মিনিটের সময়েই গোল করেন কাই হাভার্টজ। ফলে আর্সেনাল এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
এরপর অনেকটাই রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয় গানাররা। কিন্তু গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে পিএসজি। উসমান দেম্বেলে, দেজিরে দুয়ে আর কাভারাতস্কেলিয়া বারবার আক্রমণ করেও প্রথমার্ধে গোল পরিশোধ করতে পারেননি।
নাটকীয় পেনাল্টিতে দেম্বেলের গোলে পিএসজির স্বস্তি
অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে স্বস্তি এসেছে প্যারিসের ক্লাবটির তাঁবুতে। ৬৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দেম্বেলে সমতা (১-১) ফেরান। ৬২তম মিনিটে মসকেরার ভুলেই পিএসজি ম্যাচ ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায়। মসকেরার ঠিক সামনে পজিশন নিয়ে নিয়েছিলেন খিচা কাভারাতস্কেলিয়া। তখনই পেছন থেকে এই জর্জিয়ান ফরোয়ার্ডকে ফাউল করে বসেন মাসকেরা। রেফারি কিছুটা দ্বিধা করলেও শেষ পর্যন্ত পেনাল্টির নির্দেশ দেন।

পেনাল্টির আগেও কিছু নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। পেনাল্টি শটের সময় কিছুটা কালক্ষেপনের চেষ্টা করে আর্সেনাল। বিশেষ করে গোলরক্ষক ডেভিড রায়া বল দখলে রাখার চেষ্টা করেন। ফলে রেফারিকে বেশ কড়াভাবেই দুই দলের খেলোয়াড়দের পেনাল্টি বক্স থেকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে হয়। তবে সব চাপ সামলে চমৎকার ঠান্ডা মাথায় স্পট-কিক নেন দেম্বেলে। তাতেই সমতায় ফেরে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
৭১তম মিনিটে হাকিমির একটি ক্রস থেকে আরেকবার চেষ্টা চালান দেম্বেলে। ডান প্রান্তে দিয়ে সেই চেষ্টা বাধা হয়ে দাঁড়ান গাব্রিয়েল। শেষ পর্যন্ত ফরাসি ফরোয়ার্ডের বল বারের ডান পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়।
এর সাত মিনিট পর একক প্রচেষ্টায় আক্রমণে ওঠেন কাভারাতস্কেলিয়া। মিডফিল্ডের কাছাকাছি বল পেয়ে হেডের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণে নেন জর্জিয়ান ফরোয়ার্ড। বল নিয়ে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন। তবে শট নিতে তিনি কিছুটা বেশি সময় নিয়ে ফেলেন; যার পুরো ফায়দা তুলে একদম সঠিক পজিশনে থাকা লুইস-স্কেলি তাঁর শটটি প্রতিহত করে দেন এবং বল গিয়ে প্রথম পোস্টে আঘাত করে।

নির্ধারিত সময় শেষের মিনেট পাঁচেক আগে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে মাথা ছুঁয়েছিলেন হাভার্টজ, কিন্তু বল গিওকেরেসের মাথার সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত পিএসজি বিপদ মুক্ত করে।
যোগ করা সময়ের ৬ষ্ঠ মিনিটে বারকোলা পিএসজির হয়ে জয়সূচক গোলটি করেই ফেলতে পারতেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হওয়ায় খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও কোনো দল আর গোল করতে পারেনি।
স্নায়ু টানটান টাইব্রেকা আবার ইউরোপ সেরা পিএসজি
ম্যাচ গড়ায় উত্তেজনার টাইব্রেকারে। পিএসজির হয়ে প্রথম শট নেন গনসালো রামোস। তার অব্যর্থ নিশানার পর ভুল করেননি আর্সেনালের ভিক্টোর গিওকেরেসও। পিএসজির হয়ে দ্বিতীয় শট নিয়ে দেজিরে দুয়েও সফল হন। কিন্তু ইবেরেচি এজে গড়বড় করে বসেন। তার শট বারের বাঁ পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। শট নিতে এসে থেমে যান ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। এরপর শট নিয়ে করেন ভুল।

এই শট মিসের কারণে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া আর্সেনাল শিবিরে প্রাণ ফিরেছে রায়ার দক্ষতায়। নুনো মেন্দেসের বল ঠেকিয়ে দেন এই স্প্যানিশ গোলরক্ষক। ডেকলান রাইস দুর্দান্ত শটে লক্ষ্যভেদ করে আর্সেনালকে সমতায় ফেরান (২-২)।
পিএসজির মরক্কান রাইটব্যাক আশরাফ হাকিমি ভুল করেননি এই যাত্রায়। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি পিএসজিকে। টানটান উত্তেজনার মাঝে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ফের সমতায় ফেরান গানারদের।

কিন্তু পঞ্চম শটে গিয়ে আবার ভুল করে আর্সেনাল। পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন লুকাস বেরাল্ডো। কিন্তু আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালেস মিস করলে শিরোপা উৎসবে মেতে ওঠে পিএসজি।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















