আইপিএলে সবার আগে প্লে-অফে বেঙ্গালুরু জায়গা করে নিয়েছে। রবিবার তারা ধর্মশালায় পাঞ্জাব কিংসকে ২৩ রানে হারিয়েছে। এর ফলে ১৩ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব পেরোনো নিশ্চিত হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। আর এক ম্যাচ হাতে থাকা পাঞ্জাব ১৩ পয়েন্ট নিয়ে পড়েছে শঙ্কায়। তবে আরেক ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে প্লে-অফের রেসে আছে দিল্লি ক্যাপিটালস।
প্লে-অফে বেঙ্গালুরু
দারুণ এক জয়ে প্লে-অফে বেঙ্গালুরু ঠাঁই করে নিয়েছে মাত্র এক ম্যাচ বাকি থাকতে। এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এবার শেষ চারে ওঠার জন্য বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। এখনো বাকি তিন দল হওয়ার লড়াইয়ে আছে সাতটি দল। অথচ একটি করে ম্যাচ বাকি আছে দিল্লি, পাঞ্জাব আর গুজরাট টাইটান্সের। আর দুটি করে ম্যাচ বাকি রাজস্থান, কলকাতা নাইট রাইডার্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও চেন্নাই সুপার কিংসের।
রবিবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রাজস্থানের মুখোমুখি হয় দিল্লি। হারলেই ছিটকে পড়তো তারা প্লে-অফের রেস থেকে। দিল্লির মাঠে রাজস্থান আগে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান ২০ ওভারে আট উইকেটে তোলে ১৯৩ রান।
দ্বিতীয় উইকেটে ৭০ এবং তৃতীয় উইকেটে ৭২ রানের দুটি দারুণ জুটি হয়। এ দুই জুটির পেছনে অবদান রাখা বৈভব সূর্যবংশী ২১ বলে ৫টি চার, ৩টি ছক্কায় ৪৬, ধ্রুব জুরেল ৪০ বলে ৫টি চার, ২টি ছয়ে ৫৩ ও ২৬ বলে ৩টি চার, রিয়ন পরাগ ২৬ বলে ৫টি ছয়ে ৫১ রান করেন।

শেষ ৫.৩ ওভারে মাত্র ৩২ রান করতেই ৫টি উইকেট হারায় রাজস্থান। দিল্লির হয়ে মিচেল স্টার্ক চার ওভারে ৪০ রানে ৪টি উইকেট নেন। এছাড়া দুটি করে শিকার মাধব তিওয়ারি ও লুঙ্গি এনগিডির।
দিল্লি থাকল রেসে- রাজস্থান শঙ্কায়
জবাবে দিল্লি ১৯.২ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১৯৭ রান করে জিতে যায়। ওপেনিং জুটিতেই ১০ ওভারে ১০৫ রান তুলে দেন অভিষেক পোড়েল ও লোকেশ রাহুল। পোড়েল ৩১ বলে ৭টি চার, ১টি ছয়ে ৫১ এবং লোকেশ ৪২ বলে ১টি চার, ৩টি ছয়ে ৫৬ রান করেন। অক্ষর প্যাটেল ১৮ বলে ২টি করে চার-ছয় হাঁকিয়ে ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

জোফরা আর্চার ও ব্রিজেশ শর্মা দুটি করে উইকেট নেন। এই হারে ১২ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফে ওঠার রাস্তা কঠিন হলো রাজস্থানের। আপাতত হিসেব হচ্ছে, বাকি দুই ম্যাচ জিততেই হবে তাদের শেষ চার নিশ্চিতের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রাজস্থান- ১৯৩/৮; ২০ ওভার (জুরেল ৫৩, সূর্যবংশী ৪৬, পরাগ ৫১; স্টার্ক ৪/৪০, এনগিডি ২/২৪, মাধব ২/২৭)।
দিল্লি- ১৯৭/৫; ১৯.২ ওভার (লোকেশ ৫৬, পোড়েল ৫১, অক্ষর ৩৪*; আর্চার ২/৩৫, ব্রিজেশ ২/৪৪)।
ফল : দিল্লি ক্যাপিটালস ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : মিচেল স্টার্ক
দারুণ জয়ে প্লে-অফে বেঙ্গালুরু
দুই দলেরই ১৩তম ম্যাচ- পাঞ্জাব জিতলে প্লে-অফে ওঠার রাস্তা সুগম হবে আর বেঙ্গালুরু জিতলে নিশ্চিত করবে শেষ চার। ধর্মশালায় হওয়া সেই ম্যাচে আগে ব্যাট করে বেঙ্গালুরু চার উইকেটে তোলে ২২২ রান।
ভেঙ্কটেশ আইয়ার ৪০ বলে ৮টি চার, ৪টি ছয়ে অপরাজিত ৭৩, বিরাট কোহলি ৩৭ বলে ৪টি চার, ৩টি ছয়ে ৫৮, দেবদূত পাডিক্কাল ৪টি চার, ৩টি ছয়ে ২৫ বলে ৪৫ এবং টিম ডেভিড ১২ বলে দুটি করে চার-ছক্কায় অপরাজিত ২৮ রান করেন। ‘

হারপ্রিত ব্রার চার ওভারে ৩৫ রানে দুটি উইকেট নেন। জবাবে ১৯ রানেই ৩টি উইকেট হারিয়ে শুরুতেই বিপাকে পড়ে পাঞ্জাব। এরপর ৪৩ রানের জুটি গড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন কুপার কনোলি ও সুরিয়াংশ শেরগে। কিন্তু কনোলি ২২ বলে ৩টি করে চার-ছয়ে ৩৭ রানে আউট হলে রানের গতি কমেছে।
সুরিয়াংশও ২২ বলে ২টি করে চার-ছক্কায় ৩৫ রানে ফিরে যান। এরপর মার্কাস স্টয়নিস ২৫ বলে ৫টি চারে ৩৭ ও শশাঙ্ক সিং ৪টি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ২৭ বলে ৫৬ রান করলেও টার্গেটে পৌঁছাতে পারেনি পাঞ্জাব।

২০ ওভারে পাঞ্জাব আট উইকেটে করতে পেরেছে ১৯৯ রান। রসিক সালাম চার ওভারে ৩৬ রানে নেন ৩টি উইকেট। এই হারের পর পাঞ্জাবকে প্লে-অফ খেলতে হলে অবশ্যই নিজেদের শেষ ম্যাচটি জিততে হবে এবং অপেক্ষায় থাকতে হবে অন্যদের। অথচ সবার আগে শেষ চার নিশ্চিত করে ফেলেছে বেঙ্গালুরু।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বেঙ্গালুরু- ২২২/৪; ২০ ওভার (ভেঙ্কটেশ ৭৩*, কোহলি ৫৮, পাডিক্কাল ৪৫, ডেভিড ২৮*; হারপ্রিত ২/৩৫, চাহাল ১/৪২, অর্শদীপ ১/৪৩)
পাঞ্জাব- ১৯৯/৮; ২০ ওভার (শশাঙ্ক ৫৬, স্টয়নিস ৩৭, কনোলি ৩৭, সুরিয়াংশ ৩৫; সালাম ৩/৩৬, ভুবনেশ্বর ২/৩৮)।
ফল : রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ২৩ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ভেঙ্কটেশ আইয়ার।
স্কোর কার্ড
বিশ্বকাপ ২০২৩
















